সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ গ্রামবাংলার প্রাচীন ভেষজ জ্ঞানে বহু অজানা উপকারিতা লুকিয়ে আছে। তেমনই এক আশ্চর্য শাক হল “হেঁচি শাক” (হিংচা শাক, হেলেঞ্চা শাক,) যাকে অনেক জায়গায় “হাড় জোড়া শাক” নামেও ডাকা হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই শাক নিয়মিত খেলে শরীরের ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দূর হয়, এমনকি হাড়, দাঁত ও জোড়ার ব্যথা থেকেও মুক্তি মেলে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, এই শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস ও প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীরের হাড় ও জোড়াগুলোকে মজবুত রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত সেবনে হাড়ের জোড়ায় নতুন প্রাণ ফিরে আসে, এমনটাই দাবি করেছেন বহু গ্রামীণ মানুষ।
লোকায়ত চিকিৎসা মতে হেঁচি শাকের উপকারিতা:
- শরীরে জমে থাকা গ্যাস ও বাত দূর করে
- হাড়, দাঁত ও কোমরের ব্যথা উপশমে সহায়ক
- রক্ত পরিশুদ্ধ করে এবং ত্বকে আনে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা
- ক্যালসিয়াম ঘাটতি পূরণ করে শরীরের শক্তি বাড়ায়
ব্যবহার পদ্ধতি (গ্রামীণ প্রথা অনুযায়ী):
তাজা হেঁচি শাকের ৮–১০টি পাতা হালকা ধুয়ে নিয়ে বেটে এক গ্লাস কুসুম গরম জলের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে হয়।
রাতে ঘুমানোর আগে খালি পেটে আধা গ্লাস করে পান করলে ধীরে ধীরে ক্যালসিয়ামের অভাব দূর হয় এবং শরীর পায় নতুন জোর।
গ্রামীণ প্রবীণদের মতে, “যারা একবার হেঁচি শাকের রস খায়, তারা বলে— শরীরে এমন বল আসে, যেন মাঠের হাওয়াতেও প্রাণ ফিরে যায়।”
চিকিৎসকদের পরামর্শ:
যদিও গ্রামীণ প্রথায় এই শাকের ব্যাপক ব্যবহার আছে, তবে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, যে কোনও ভেষজ উপাদান নিয়মিত সেবনের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, বিশেষত যাদের কিডনি, হাড় বা হরমোনজনিত সমস্যা রয়েছে।
প্রকৃতির অগণিত ভেষজ সম্পদের মধ্যে “হেঁচি শাক” আজও গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আধুনিক বিজ্ঞান এ শাকের গুণাগুণ নিয়ে আরও গবেষণা চালাচ্ছে, কিন্তু গ্রামবাংলার বিশ্বাস বলছে — “এই শাক খেলে হাড়ে, গাঁটে, মনে — নতুন করে জোড়া লাগে প্রাণ।”

![]()

More Stories
ওড়ন ষষ্ঠীতে বস্ত্রদান ও সহমর্মিতার বার্তা—অগ্রহায়ণের শ্রীক্ষেত্রে মানবিকতার নতুন অধ্যায়
অসামাপ্ত রেলস্বপ্ন: বাগনান–আমতা–চাঁপাডাঙা প্রকল্প জমি–জটে স্থবির
জয়রামবাটির সিংহবাহিনী মন্দির — গ্রামবাংলার বিশ্বাসের এক অনন্য তীর্থ