সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ আজ, ২২শে অক্টোবর ২০২৫, বুধবার, সারা দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে গোবর্ধন পূজা বা অন্নকূট উৎসব। দীপাবলির পরদিন পালিত এই উৎসব ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এক ঐশ্বরিক লীলার স্মৃতি বহন করে, যেখানে ভক্তি, আত্মসমর্পণ ও প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা একত্রে মিশে আছে।
শাস্ত্রানুসারে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মাত্র সাত বছর বয়সে ব্রজবাসীদের দেবরাজ ইন্দ্রের ক্রোধ থেকে রক্ষা করার জন্য গোবর্ধন পর্বতকে কনিষ্ঠ আঙুলে ধারণ করেছিলেন। কৃষ্ণের এই লীলা ‘গোবর্ধন লীলা’ নামে পরিচিত। শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরাণের দশম স্কন্ধে বর্ণিত এই লীলায় দেখা যায়, ব্রজবাসীদের ইন্দ্রযজ্ঞের পরিবর্তে কৃষ্ণ তাঁদের গোবর্ধন পর্বতের পূজা করতে উপদেশ দেন। এতে ক্রুদ্ধ হয়ে ইন্দ্র প্রলয়ঙ্করী বৃষ্টিপাতে বৃন্দাবনকে প্লাবিত করেন, কিন্তু কৃষ্ণ পর্বত তুলে আশ্রয় দিয়ে সকলকে রক্ষা করেন।
শেষ পর্যন্ত দেবরাজ ইন্দ্র নিজের ভ্রান্তি বুঝতে পেরে কৃষ্ণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এই ঘটনার মাধ্যমে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দেখিয়েছিলেন— সত্যভক্ত আত্মসমর্পিত জীবনের কাছে দেবদেবীর অনুগ্রহও গৌণ; ভক্তি ও সেবাই পরম ধর্ম।
এই দিনটিতে গোবর্ধন পূজার পাশাপাশি গোমাতা পূজারও বিশেষ প্রথা রয়েছে। কারণ কৃষ্ণ গোপাল—গোমাতার রক্ষক। ভক্তরা এই দিনে গোমাতাকে সজ্জিত করে, খাওয়ান ও “নমো ব্রহ্মণ্য-দেবায় গো-ব্রাহ্মণ-হিতায় চ” মন্ত্রে প্রার্থনা করেন।
গোবর্ধন পূজা ‘অন্নকূট উৎসব’ নামেও পরিচিত। “অন্ন” অর্থ ভাত এবং “কূট” অর্থ পর্বত—অর্থাৎ অন্নের পাহাড়। এদিন ভক্তরা নানা রকম মিষ্টান্ন, ফলমূল ও ভোজন সামগ্রী দিয়ে অন্নের পর্বত তৈরি করে শ্রীকৃষ্ণকে নিবেদন করেন।
ব্রজের ভক্তরা এই উপলক্ষে গোবর্ধন পর্বতের প্রতিরূপ তৈরি করে পূজা দেন ও পরিক্রমা করেন।
ভক্তদের বিশ্বাস, এই উৎসব আমাদের শেখায় — প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা, জীবজগতের প্রতি মমতা এবং পরমেশ্বরের প্রতি নিঃস্বার্থ ভক্তিই জীবনের প্রকৃত ধর্ম।

![]()

More Stories
NEET প্রশ্নফাঁস বিতর্কে সাময়িকভাবে বন্ধ টেলিগ্রাম, দেশজুড়ে আলোড়ন
দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় বড় সাফল্য
রাম মন্দিরে অনুদান আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত শুরু, অযোধ্যায় পৌঁছল SIT