November 30, 2025

সয়াবিন তেলে ‘হেক্সেন’ আতঙ্ক: পেটের অসুখের মূলেই কি রান্নার তেল?

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ দেশের গৃহস্থালি রান্নাঘরে প্রতিদিন ব্যবহার হচ্ছে যে সয়াবিন তেল— সেই তেল তৈরির পদ্ধতি নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন। ফ্যাক্টরি পর্যায়ে সয়াবিন তেল নিষ্কাশনে ব্যবহৃত হয় এক ধরনের পেট্রোলিয়ামজাত দ্রাবক— ‘হেক্সেন’। বিজ্ঞানীদের মতে, এই যৌগ অক্টেনের মতোই একটি রাসায়নিক দ্রব্য, যা স্বাভাবিক অবস্থায় মানুষের শরীরের জন্য বিষাক্ত

শিল্প কারখানায় সয়াবিন বীজ প্রথমে গুঁড়ো করে হেক্সেনের মধ্যে ভিজিয়ে রাখা হয়, যাতে বীজের প্রায় ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত তেল নিষ্কাশন করা সম্ভব হয়। পরে রিফাইনিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তেল থেকে হেক্সেন আলাদা করার দাবি করা হলেও— অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এই রাসায়নিকের অল্প পরিমাণ অবশিষ্ট থাকতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের তেল নিয়মিত খেলে গাট লাইনিং বা পাকস্থলীর প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলেই দেখা দিচ্ছে নানা রকম পাকস্থলীর জটিলতা— যেমন গ্যাস্ট্রিক, আলসার, এসিড রিফ্লাক্স (GERD), এবং আইবিএস। একবার পাকস্থলীর প্রাচীর নষ্ট হয়ে গেলে, রোগীকে দীর্ঘদিন ওষুধের ওপর নির্ভর করতে হয়।

তেলটিতে থাকে অতিরিক্ত ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড ও ট্রান্স ফ্যাট, যা শরীরে প্রদাহ বাড়ায়। ফলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে হতে পারে হৃদরোগ, ফ্যাটি লিভার ও হরমোনজনিত সমস্যা। চিকিৎসকদের মতে, শহরাঞ্চলে লিভার ও গ্যাস্ট্রো রোগীর সংখ্যা এখন রেকর্ড পরিমাণে বাড়ছে, আর এর একটি বড় কারণ হতে পারে খাদ্যতেল ব্যবহারের ধরণ।

দেশে শুধু গ্যাস্ট্রিক ও হজমসংক্রান্ত ওষুধের বাজারই বছরে ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ কোটি টাকার বলে অনুমান করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, এ সমস্যার মূলেই রয়েছে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার, এবং নিম্নমানের তেল ব্যবহার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশি সরিষার তেল বাঙালির দেহের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। এটি সহজলভ্য, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ। পরিমিতভাবে ব্যবহার করলে সরিষার তেলে কোনো ক্ষতি হয় না।

আরো যেসব তেল নিরাপদ হিসেবে ধরা হয়:

  • 🫒 অলিভ অয়েল: কাঁচা খাওয়া ও হালকা আঁচে রান্নার জন্য
  • 🥥 কোকোনাট অয়েল: মাঝারি তাপে রান্নার জন্য
  • 🌰 তিলের তেল: রান্না ও ভাজায় ব্যবহারযোগ্য
  • 🧈 ঘি: উচ্চ তাপে ভাজাপোড়ার জন্য উপযুক্ত

চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের পরামর্শ— বাজারের রিফাইন করা তেল ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। প্রাকৃতিক, কম প্রক্রিয়াজাত তেল বেছে নিতে পারলেই পেটের অসুখ থেকে শুরু করে হৃদরোগ পর্যন্ত অনেক ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

Loading