November 30, 2025

লালা লাজপত রায়ের মৃত্যুবার্ষিকী: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিপুরুষ

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ লালা লাজপত রায় (জন্ম: ২৮ জানুয়ারি ১৮৬৫ – মৃত্যু: ১৭ নভেম্বর ১৯২৮) ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক অন্যতম নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁকে ‘পাঞ্জাব কেশরী’ নামে সম্মানিত করা হয়। বাল গঙ্গাধর তিলক ও বিপিন চন্দ্র পাল-এর সঙ্গে তিনি গঠন করেছিলেন বিখ্যাত লাল-বাল-পাল ত্রয়ী, যারা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে চরমপন্থী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠেন।

• বর্তমান পাঞ্জাবের মোগা জেলায় জন্ম।
• লাহোরের গভর্নমেন্ট কলেজে আইন অধ্যয়ন করেন।
• ছাত্রজীবন থেকেই আর্য সমাজ আন্দোলন ও সমাজসংস্কার কর্মে যুক্ত ছিলেন।

• ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
• সুরাজ—অর্থাৎ স্বরাজ প্রতিষ্ঠার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন।
• ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নরমপন্থী রাজনীতির বিপরীতে চরমপন্থী জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা ছিলেন।
• ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সক্রিয় নেতা; ১৯২০ সালে অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।
• ১৯১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ‘Indian Home Rule League of America’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং বিদেশে ভারতীয় স্বাধীনতার দাবি জোরালো করেন।

• আর্য সমাজের সক্রিয় সদস্য হিসেবে নারী শিক্ষা, জাতিভেদ দূরীকরণ, সামাজিক কুসংস্কার দূর করার কাজে যুক্ত ছিলেন।
• লাহোরে দয়ানন্দ অ্যাংলো-ভেদিক (DAV) কলেজ প্রতিষ্ঠায় প্রধান ভূমিকা নেন।
• দরিদ্র মানুষের উন্নয়ন ও জাতীয় শিক্ষা প্রচারের জন্য কাজ করেন।

১৯২৮ সালে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক গঠিত সাইমন কমিশন—যেখানে কোনও ভারতীয় সদস্য ছিল না—এর বিরুদ্ধে সারা ভারত উত্তাল হয়ে ওঠে। লালাজি লাহোরে একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিলে নেতৃত্ব দেন। পুলিশের লাঠিচার্জে তিনি গুরুতর আহত হন।

এই আঘাতের ফলেই কিছুদিন পর ১৭ নভেম্বর ১৯২৮ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর ঐতিহাসিক উক্তি—

“Every blow on my body will prove a nail in the coffin of the British Empire.”
(আমার দেহে প্রতিটি আঘাত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কফিনে একটি করে পেরেক হবে।)

• ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অবদান অমলিন।
• দেশপ্রেম, সাহস ও আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে আজও তিনি স্মরণীয়।
• ভারতের বিভিন্ন শহরে তাঁর নামে রাস্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্মৃতিসৌধ প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।

Loading