সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ শরীরের সবচেয়ে পরিশ্রমী অঙ্গ কোনটি? চিকিৎসকদের কাছে এর উত্তর স্পষ্ট—লিভার। দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রমে রক্ত ফিল্টার করা, ফ্যাট ভাঙা থেকে শুরু করে শরীরের যাবতীয় বিষাক্ত বর্জ্য অপসারণ—এসব গুরুত্বপূর্ণ কাজেই লিভার প্রথম সারির যোদ্ধা। তাই একে শরীরের ‘প্রসেসিং ইউনিট’ কিংবা ‘ডিটক্সিফিকেশন কিং’ বললেও অত্যুক্তি হয় না।
কিন্তু খাদ্যরসিক বাঙালির দৈনন্দিন অভ্যাসই ক্রমশ লিভারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। চিকিৎসকদের মতে, ফ্যাটি লিভার থেকে জন্ডিস—বড় বিপদের আগেই সতর্ক হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। তাই প্রয়োজন লিভারকে তার প্রাপ্য ‘VIP ট্রিটমেন্ট’ দেওয়া।
লিভার কেন চাপে পড়ে? চারটি বড় ভুলে বাড়ে বিপদ
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারার কিছু সাধারণ ভুলই লিভার সমস্যার মূল কারণ।
১. অতিরিক্ত চিনি ও প্যাকেটজাত খাবার
সফট ড্রিংকস, মিষ্টান্ন বা অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজযুক্ত খাবার সরাসরি লিভারে ফ্যাট জমায়।
২. একই তেলে বারবার ভাজা খাবার
পারি-সিঙ্গারা থেকে চপ—বাসি তেলে ভাজা খাবারে থাকা ট্রান্স ফ্যাট লিভারের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
৩. অলস জীবনযাপন
শরীরচর্চার অভাব হলে অতিরিক্ত চর্বি প্রথমেই জমে লিভারে।
৪. অতিরিক্ত মানসিক চাপ
দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেসে কর্টিসল হরমোন বৃদ্ধি পায়, যা লিভারের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতায় ব্যাঘাত ঘটায়।
‘লিভার হ্যাপি প্ল্যান’: প্রাকৃতিক উপায়ে লিভারের পুনর্জাগরণ
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—খাদ্যাভ্যাস, পানীয় এবং জীবনধারা—এই তিন ক্ষেত্রেই ছোট কিছু পরিবর্তন লিভারকে দ্রুত সুস্থ করে তুলতে পারে।
১. খাবারের সবুজ সংকেত: লিভারের প্রিয় তালিকা
• রসুন ও হলুদ – সালফার যৌগ ও কারকিউমিন লিভারের ডিটক্স প্রক্রিয়া দ্রুত করে।
• ব্রোকলি ও বাঁধাকপি – গ্লুকোসিনোলেটস নামক উপাদান লিভার এনজাইম সক্রিয় করে।
• বীটরুট – বিটেইন ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে কার্যকর।
• অলিভ অয়েল ও অ্যাভোকাডো – ভালো ফ্যাট প্রদাহ কমায়।
• লেবু ও সাইট্রাস ফল – ভিটামিন C টক্সিন জলে দ্রবণীয় করে বাইরে বের করতে সহায়ক।
টিপস: সকালে লেবু-জলের অভ্যাস বা রান্নার পর সবজিতে অল্প অলিভ অয়েল—দুই-ই লিভারের জন্য উপকারী।
২. সঠিক পানীয়: চিনি নয়, চাই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
• ব্ল্যাক কফি – লিভার ফাইব্রোসিস ও সিরোসিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
• গ্রিন টি – ক্যাটেচিন লিভারের চর্বি কমায়।
• বিশুদ্ধ জল – প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস জল ডিটক্স প্রক্রিয়া তরান্বিত করে।
৩. জীবনধারায় ‘রিসেট বাটন’
• ধীরে খান, ভালো করে চিবিয়ে খান—হজম সহজ হয়, লিভারের চাপ কমে।
• প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটা বা যোগব্যায়াম—ফ্যাটি লিভার কমানোর প্রমাণিত উপায়।
• স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট—মেডিটেশন বা শখের কাজ মানসিক চাপ কমিয়ে লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।
সতর্কতা ও করণীয়
আজই বাদ দিন: সফট ড্রিংকস, অতিরিক্ত মিষ্টি, তেলে ভাজা খাবার।
আজই অভ্যাসে আনুন: সবুজ সবজি, হলুদ, রসুন এবং বেশি জল।
আজই শুরু করুন: অন্তত আধঘণ্টা হাঁটা।
চিকিৎসকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন—লিভারকে সুস্থ রাখা মানে শুধু একটি অঙ্গ নয়, বরং পুরো শরীরের এনার্জি, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও জীবনীশক্তিকে সুরক্ষিত রাখা। তাই শরীরের এই ‘সুপার পাওয়ার হাউস’-কে অবহেলা নয়, বরং যত্নই হোক মূলমন্ত্র।
সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন।

![]()

More Stories
শিশুটির হাতে মোবাইল , মোবাইলের স্ক্রিনে রীলস। অন্তহীন অর্থহীন শালীন অশালীন ভেদাভেদজ্ঞানহীন রীলস।
মুখে রোগ, ঝুঁকি স্ট্রোকে—২১ বছরের গবেষণায় চমকে দেওয়া তথ্যস্টাফ রিপোর্টা
অকাল বার্ধক্য রোধ করবেন ??