সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ পরিবেশরক্ষার ক্ষেত্রে ভারতবর্ষের ইতিহাসে যে নামটি চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, সেই কিংবদন্তি পরিবেশ-সেবিকা ‘গাছেদের মা’ নামে পরিচিত সাল্লুমারাদা থিম্মাক্কা প্রয়াত হলেন। দীর্ঘ অসুস্থতার পরে ১ ৪. ১ ১. ২ ০ ২ ৫ গত শুক্রবার বেঙ্গালুরুর এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১১৪ বছর। তাঁর প্রয়াণে কর্ণাটক সরকার, পরিবেশবিদ মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।
কর্ণাটকের টুমকুরু জেলার এক দরিদ্র পরিবারে ১৯১১ সালে জন্ম নিয়েছিলেন থিম্মাক্কা। কোনও আনুষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও প্রকৃতি ছিল তাঁর জীবনের পাঠশালা। ব্যক্তিগত জীবনে একাধিক সংকট—বিশেষত সন্তানহীনতা—তাঁকে ভেঙে দিতে পারেনি। বরং এই বেদনাই তাঁকে প্রকৃতিকে নিজের সন্তান হিসেবে লালন করার সংকল্পে দৃঢ় করে তোলে।
স্বামী চিক্কাইয়ার সঙ্গে মিলে তিনি শুরু করেন দীর্ঘ পথের ধারে গাছ লাগানোর কাজ। ৪.৫ কিলোমিটার রাস্তার ধারে তাঁরা লাগান ৩৮৫টি বটগাছ, যেগুলিকে প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার হেঁটে জল দিতে হতো। কোনও সরকারি সাহায্য ছাড়াই, প্রচণ্ড রোদ-বৃষ্টি-ঝড় উপেক্ষা করে তাঁদের স্নেহে বড় হয়েছে গাছগুলো। পরে বিভিন্ন প্রজাতির আরও হাজার হাজার গাছ লাগান থিম্মাক্কা; যার মোট সংখ্যা আজ প্রায় ৮,০০০ ছাড়িয়েছে বলে জানা যায়।
সহানুভূতি, সংগ্রাম এবং একাগ্রতার এই একক যাত্রা তাঁকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছে। পরিবেশরক্ষার অসামান্য অবদানের জন্য ভারতের রাষ্ট্রপতি তাঁর হাতে তুলে দেন পদ্মশ্রী পুরস্কার (২০১৯)। পেয়েছেন ন্যাশনাল সিটিজেন অ্যাওয়ার্ড, ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী বৃক্ষমিত্র পুরস্কার-সহ অসংখ্য সম্মান। ২০২২ সালে কর্ণাটক সরকার তাঁকে “পরিবেশ দূত” হিসেবে মন্ত্রিসভার মান্যতা প্রদান করে। তাঁর নাম যুক্ত হয়েছে BBC–এর ১০০ প্রভাবশালী মহিলার তালিকাতেও।
থিম্মাক্কার লাগানো গাছ এখন অনেক গ্রাম, বহু রাস্তা এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে ছায়া, অক্সিজেন এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের উৎস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সেই সবুজ সারিগুলি আজও তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেয়—একজন সাধারণ মানুষও প্রকৃতি রক্ষায় মহৎ পরিবর্তন আনতে পারে।
তাঁর মৃত্যুতে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী গভীর শোকপ্রকাশ করে বলেছেন, “থিম্মাক্কা শুধু গাছ লাগাননি—লাগিয়েছেন আশা, বিশ্বাস আর পৃথিবী বাঁচানোর অঙ্গীকার।” পরিবেশবিদরা মনে করছেন, প্রকৃতির জন্য তাঁর আজীবন সংগ্রাম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার আলো হয়ে থাকবে।
গাছেদের মা আর নেই, কিন্তু তাঁর লাগানো অগণিত সবুজ সন্তানই তাঁর উত্তরাধিকার বহন করবে আগামী শতাব্দী ধরে।

![]()

More Stories
ওড়ন ষষ্ঠীতে বস্ত্রদান ও সহমর্মিতার বার্তা—অগ্রহায়ণের শ্রীক্ষেত্রে মানবিকতার নতুন অধ্যায়
অসামাপ্ত রেলস্বপ্ন: বাগনান–আমতা–চাঁপাডাঙা প্রকল্প জমি–জটে স্থবির
জয়রামবাটির সিংহবাহিনী মন্দির — গ্রামবাংলার বিশ্বাসের এক অনন্য তীর্থ