February 4, 2026

জালিয়ানওয়ালাবাগের রক্তঋণ শোধের অঙ্গীকার: স্মরণে অমর শহীদ উধম সিং

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ; দেশজুড়ে আজ গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগের সঙ্গে পালিত হচ্ছে অমর শহীদ উধম সিং-এর ১২৬তম জন্মবার্ষিকী। স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে যাঁর নাম প্রতিশোধ, আত্মত্যাগ ও আপসহীন সাহসের প্রতীক হয়ে রয়েছে, সেই উধম সিং-এর স্মৃতিতে আজ দেশবাসী নতশিরে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।

১৮৯৯ সালের এই দিনে অবিভক্ত ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের সুনাম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন উধম সিং। শৈশব থেকেই দারিদ্র্য, অনাথত্ব ও ব্রিটিশ শাসনের নিষ্ঠুর বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। অল্প বয়সেই মা-বাবাকে হারিয়ে অনাথ আশ্রমে বড় হয়ে ওঠা উধম সিং-এর মনে ধীরে ধীরে জন্ম নেয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আগুন।

১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল পাঞ্জাবের অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে ঘটে যায় ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস অধ্যায়। নিরস্ত্র জনতার উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে শত শত মানুষকে হত্যা করে ব্রিটিশ সেনা। সেই হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন উধম সিং। রক্তে ভেসে যাওয়া মাঠ, আর্তনাদ, নিথর দেহ—এই দৃশ্য তাঁর মনে চিরদিনের জন্য ক্ষত হয়ে গেঁথে যায়। সেদিনই তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, এই গণহত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দিতেই হবে।

দীর্ঘ ২১ বছর ধরে ধৈর্য, পরিকল্পনা ও অপেক্ষার মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করেন উধম সিং। অবশেষে ১৯৪০ সালের ১৩ মার্চ লন্ডনের ক্যাক্সটন হলে এক সভায় ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন পাঞ্জাবের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মাইকেল ও’ডোয়ায়ারকে গুলি করে হত্যা করেন তিনি। উল্লেখ্য, জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম নেপথ্য কুশীলব ছিলেন এই ও’ডোয়ায়ার। উধম সিং তাঁর এই কাজকে ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নয়, বরং নির্যাতিত ভারতবাসীর ন্যায়বিচারের দাবি বলেই ঘোষণা করেছিলেন।

গ্রেফতারের পর আদালতে দাঁড়িয়ে উধম সিং স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি কোনও অপরাধ করেননি—তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর বক্তব্যে ধরা পড়ে এক অদম্য দেশপ্রেমিকের দৃঢ়তা ও আত্মত্যাগের মহিমা। অবশেষে ১৯৪০ সালের ৩১ জুলাই ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ফাঁসি দেয়। হাসিমুখে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে তিনি হয়ে ওঠেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অমর শহীদ।

আজ তাঁর জন্মবার্ষিকীতে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে স্মরণ করা হচ্ছে এই বীর বিপ্লবীকে। রাজনৈতিক নেতা, সমাজকর্মী ও সাধারণ মানুষ উধম সিং-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের জন্য আত্মত্যাগের চেতনাকে নতুন করে স্মরণ করছেন। তাঁর জীবন আজও মনে করিয়ে দেয়—অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কখনও বৃথা যায় না, আর আত্মত্যাগই স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্য।

শহীদ উধম সিং-এর নাম তাই কেবল ইতিহাসের পাতায় নয়, ভারতবাসীর হৃদয়ে চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে।

Loading