February 4, 2026

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘বৈষম্য’ ও ‘স্বেচ্ছাচারিতা’র অভিযোগ তৃণমূলের; স্বচ্ছতার দাবিতে সরব শীর্ষ নেতৃত্বনিজস্ব প্রতিনিধি

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ; পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া (SIR) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ECI) বিরুদ্ধে একগুচ্ছ গুরুতর অভিযোগ তুলল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বাংলাকে সুপরিকল্পিতভাবে ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত অস্বচ্ছ ও বৈষম্যমূলক নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়সহ তৃণমূলের ১০ জন শীর্ষ নেতার স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

তৃণমূলের মূল অভিযোগসমূহ:১. পশ্চিমবঙ্গের প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরণ:তৃণমূলের দাবি, উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে যেখানে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার হার অনেক বেশি, সেখানে কোনো বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়নি। অথচ শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে প্রতিটি জেলায় এবং ব্লকে মাইক্রো-অবজারভার বা বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। কেন এই ‘বিশেষ নজরদারি’, তার কোনো সাংবিধানিক ব্যাখ্যা নেই বলে দাবি জোড়া-ফুল শিবিরের।

২. ভোটার ম্যাপিং-এ বিভ্রাট:কমিশন আগে দাবি করেছিল যে ২০০২ সালের SIR রোলের সঙ্গে ৪৫ শতাংশ ভোটারের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে ৮৮.২৭ শতাংশ ভোটারই সফলভাবে ম্যাপ করা সম্ভব। অভিযোগ করা হয়েছে যে, কমিশনের ব্যবহৃত ‘ত্রুটিপূর্ণ’ সফটওয়্যারের কারণে অনেক বৈধ ভোটারের নাম ‘আনম্যাপড’ (Unmapped) হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

৩. পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতি অনিয়ম:তৃণমূল জানিয়েছে, বিহারে ভোটার যাচাইয়ের সময় পরিযায়ী শ্রমিকদের সশরীরে হাজির থাকার প্রয়োজন পড়েনি; পরিবারের লোকের জমা দেওয়া নথিতেই কাজ হয়েছে। কিন্তু বাংলার ক্ষেত্রে পরিযায়ী শ্রমিকদের সশরীরে হাজিরা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা কার্যত তাদের রুটিরুজি এবং ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার নামান্তর।

৪. আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ:রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপল অ্যাক্ট, ১৯৫০ অনুযায়ী ভোটার যাচাইয়ের প্রাথমিক ক্ষমতা বুথ স্তরের ইআরও (ERO)-দের। তৃণমূলের অভিযোগ, কমিশন এখন সেই ক্ষমতা সরাসরি ডিইও (DEO)-দের হাতে দিচ্ছে এবং মাত্র ৫ দিনের অসম্ভব সময়সীমা বেঁধে দিচ্ছে। এতে যাচাইকরণ প্রক্রিয়া যান্ত্রিক ও ত্রুটিপূর্ণ হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকছে।

একগুচ্ছ দাবি পেশ: তৃণমূল কংগ্রেস কমিশনের কাছে মূলত ১২টি দাবি জানিয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: যাঁদের নাম ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যৌক্তিক অসংগতির তালিকায় আছে, তাঁদের তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করা। প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বাড়িতে গিয়ে বা ভিডিও কলের মাধ্যমে যাচাইকরণ করা। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ভার্চুয়াল হিয়ারিং বা পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে আবেদনের সুযোগ দেওয়া। *কেএপি (KAP) সার্ভের জন্য কোনো বেসরকারি সংস্থাকে ব্যবহার না করা।দলের বক্তব্য:চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২৮ নভেম্বর তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল এই বিষয়ে প্রশ্ন তুললেও কমিশন এখনও পর্যন্ত কোনো সদুত্তর দেয়নি। বরং সংবাদমাধ্যমে ভুল খবর ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কমিশন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নিজেদের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা পালন করবে বলেই আশা প্রকাশ করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

Loading