February 4, 2026

২১ বছরেই ইতিহাসে নাম, প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে সর্বকনিষ্ঠ সঞ্চালক হুগলির কন্যা স্বপ্নীলা আচার্য

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ; মাত্র ২১ বছর বয়সেই ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখে ফেললেন হুগলির মগরা ব্লকের দিঘসুই গ্রামের কন্যা স্বপ্নীলা আচার্য। ২৬ জানুয়ারি, ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে দিল্লির কর্তব্য পথে যখন বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ শুরু হয়, তখন তাঁর দৃপ্ত ও স্পষ্ট কণ্ঠস্বর শুনলো গোটা বিশ্ব। এ বছর প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে সর্বকনিষ্ঠ সঞ্চালক হিসেবে নির্বাচিত হয়ে নজির গড়েছেন এই বঙ্গকন্যা। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষনেতাদের সামনে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে ধারাভাষ্য দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল স্বপ্নীলার কাঁধে—বা বলা ভালো, তাঁর কণ্ঠে। তাঁর এই কৃতিত্বে আনন্দ ও গর্বের আবহ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা হুগলি জেলা জুড়ে। বাবার বদলিযোগ্য চাকরির কারণে স্বপ্নীলার স্কুলজীবনের বড় অংশ কেটেছে জম্মু ও কাশ্মীরে। বর্তমানে তিনি দিল্লিতে স্নাতক স্তরের ছাত্রী। তবে পড়াশোনার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই মেধা ও প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের প্রকল্প ‘যুবিকা’ (YUVIKA)-এর আওতায় ইসরোর ‘ইয়াং সায়েন্টিস্ট’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন স্বপ্নীলা ও তাঁর যমজ ভাই স্বপ্নীল—যা তাঁর বহুমুখী কৃতিত্বেরই প্রমাণ। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সেরিমোনিয়াল বিভাগের প্যানেলে ধারাভাষ্যকার হিসেবে স্বপ্নীলার উত্থান কার্যত উল্কার গতিতে। সম্প্রতি জয়পুরে আয়োজিত ‘আর্মি ডে প্যারেড’ এবং সোয়াই মান সিং স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘শৌর্য সন্ধ্যা’ অনুষ্ঠানেও সাফল্যের সঙ্গে সঞ্চালনা করেন তিনি। ওই সব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। এ বার প্রজাতন্ত্র দিবসের মঞ্চে দাঁড়িয়ে দিল্লির বুকে বাংলার নাম আরও একবার উজ্জ্বল করলেন স্বপ্নীলা আচার্য। তাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত হলো গর্ব, আত্মবিশ্বাস আর এক স্বপ্ন দেখা তরুণ প্রজন্মের দৃপ্ত প্রত্যয়।

Loading