February 4, 2026

ভোটের আগে ‘কড়া’ নির্বাচন কমিশন—দিল্লিতে IAS-IPS ব্রিফিং বাধ্যতামূলক, অনুপস্থিতিতে শাস্তির হুঁশিয়ারি

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে কমিশনের কঠোর বার্তা

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ ২০২৬ সালের আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ ও পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচন এবং একাধিক উপনির্বাচনকে সামনে রেখে এবার আর নরম অবস্থানে নেই ভারতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। নির্বাচন পরিচালনায় প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কমিশন যে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত—তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে সাম্প্রতিক নির্দেশিকায়।

সূত্রের খবর, টানা তিনবার রিমাইন্ডার পাঠানো সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখনও নির্বাচন কমিশনকে জানায়নি—কোন কোন IAS ও IPS অফিসারকে বিধানসভা নির্বাচনের কাজে নিয়োগ করা হবে। রাজ্য সরকারের এই গড়িমসির পরই কমিশন কার্যত কঠোর অবস্থান নেয়।

এরপর নির্বাচন কমিশন সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-কে চিঠি পাঠিয়ে জানায়, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ও তালিকাভুক্ত অফিসারদের জন্য দিল্লিতে বাধ্যতামূলক ব্রিফিং মিটিং অনুষ্ঠিত হবে।

কোথায়, কবে এই ব্রিফিং?

চিঠি অনুযায়ী, এই ব্রিফিং মিটিং হবে—

  • স্থান: IIIDEM (India International Institute of Democracy and Election Management), দ্বারকা, নয়াদিল্লি
  • তারিখ: ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ব্যাচ: মোট ৩টি ব্যাচে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে—

  • নির্ধারিত ব্যাচ অনুযায়ী অফিসারদের সময়মতো জানাতে হবে
  • উপস্থিতি নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক
  • অননুমোদিত অনুপস্থিতি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে
  • প্রয়োজনে নেওয়া হবে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা
  • ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নোটিস সার্ভিস করে লিখিত স্বীকৃতি (Acknowledgement) নিতে হবে
  • হাজিরা সংক্রান্ত লিখিত নিশ্চিতকরণ রিপোর্ট ই-মেইলে কমিশনে পাঠাতে হবে

রাজ্যের গড়িমসির পর কমিশনের ‘সরাসরি’ বার্তা

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তালিকা পাঠাতে দেরি হওয়ায় নির্বাচন কমিশন এবার নিজেই অফিসারদের নামের তালিকা পাঠিয়ে দিয়েছে এবং কার্যত জানিয়ে দিয়েছে—
দিল্লির বৈঠকে হাজিরা বাধ্যতামূলক। অনুপস্থিত থাকলে শাস্তি অনিবার্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্দেশিকার মাধ্যমে কমিশন বুঝিয়ে দিল—পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা, আইনের শাসন, এবং নির্বাচনী শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আর কোনও ছাড় দেওয়া হবে না

ভোটাধিকার রক্ষায় কমিশনের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রসঙ্গে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ভোটাধিকার মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার। সেই অধিকার রক্ষা করাই কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

এই প্রেক্ষিতে কমিশনের কঠোর অবস্থানকে অনেকেই স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা, নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগে কারা অস্বস্তিতে পড়বে এবং কে কতটা প্রতিক্রিয়া দেখাবে—সেদিকেও নজর থাকবে।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের এই বার্তা একটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে—
এবার নির্বাচন পরিচালনায় শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কমিশন কোনওরকম গড়িমসি বা অসহযোগিতা বরদাস্ত করবে না।

Loading