সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ বসন্তের বিদায়বেলা আর গ্রীষ্মের আগমনে বাংলার আকাশ-বাতাসে যখন রুক্ষতার ছোঁয়া, ঠিক তখনই হুগলি জেলার গ্রামগঞ্জে পালিত হলো ঐতিহ্যবাহী ঘেঁটু পূজা। চৈত্র মাসের শেষ দিন অর্থাৎ চৈত্রসংক্রান্তিতে চর্মরোগের দেবতা হিসেবে পরিচিত ‘ঘেঁটু’ বা ‘ঘণ্টাকর্ণ’ ঠাকুরের আরাধনায় মেতে উঠলেন রাজ্য সহ জেলার প্রান্তিক মানুষ জন। লোকপুরাণ মতে, চৈত্র মাসে আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় বসন্ত বা চর্মরোগের প্রকোপ বাড়ে। গ্রামীণ মানুষের বিশ্বাস, ঘেঁটু ঠাকুরের সন্তুষ্টিতে মিলবে রোগমুক্তি। হুগলি জেলার তারকেশ্বর, সিঙ্গুর, হরিপাল এবং গোঘাট ব্লকের বহু গ্রামে এই উৎসব পালনের রীতি শতাব্দী প্রাচীন। ঘেঁটু পূজোর জন্য প্রথমে একটি মাটির সরা বা ভাঙা হাঁড়ি নেওয়া হয়। সেটিতে গোবর মাখিয়ে সাজানো হয় ও ধুপ প্রদীপ দেওয়া হয়। এরপর তাতে রাখা হয় ঘেঁটু ফুল—যাকে স্থানীয় ভাষায় ভাঁট ফুল বলা হয়। তার সঙ্গে তিনটি কড়ি দিয়ে সাজিয়ে তার উপর একটি হলুদ মাখানো কাপড় বিছিয়ে দেওয়া হয়। মসুর ডাল ও আখের গুড় দিয়ে বিশেষ মন্ত্র পাঠ করে পূজার অর্ঘ্য নিবেদন করা হয়। পূজা শেষ হলে সেই সাজানো মাটির সরাটিকে বাঁশের লাঠি দিয়ে একবার আঘাত করে ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর নিয়ম অনুযায়ী লাঠিটি হাতে নিয়ে সামনে সোজা হেঁটে চলে যেতে হয়—পেছনে ফিরে তাকানো সম্পূর্ণ নিষেধ বলে মনে করা হয়। কিছু দূর গিয়ে সেই লাঠি পুকুরের জলে ধুয়ে নেওয়া হয়। এরপর ভেঙে যাওয়া মাটির সরার টুকরো ব্যবহার করে প্রদীপ জ্বালানো হয়। সেই প্রদীপের সরিষার তেল মেখে কালি তৈরি করে পরিবারের সকলের চোখে লাগানো হয়। আবার পূজায় ব্যবহৃত হলুদ মাখানো কাপড়ের টুকরো দিয়ে চোখের উপর আলতো করে বুলিয়ে দেওয়া হয়।লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই আচার পালন করলে চোখের নানা রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এবং পরিবারের সকলের সুস্থতা বজায় থাকে। গ্রামবাংলার এই লোকাচার আজও মানুষের বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। হুগলি জেলার ঘেঁটু উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর নিজস্ব ঘরানার গান। ঢাক বা ঢোলকের তালে তালে ছেলেরা দল বেঁধে গেয়ে ওঠে:সময়ের বিবর্তনে বর্তমান চিত্রআধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি সত্বেও, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে এই উৎসবের গুরুত্ব আজও কমেনি। তবে গ্রামবাংলার প্রবীণদের একাংশের আক্ষেপ, আধুনিক বিনোদনের চাপে ঘেঁটু গানের সেই মাধুর্য কিছুটা ম্লান হচ্ছে।


![]()

More Stories
বালিবেলা সরস্বতী শিশু মন্দিরে আচার–অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শিশুদের ‘হাতে খড়ি’
১৫ বছরের পুরনো সাওড়া খুন মামলায় বড় মোড় — হাইকোর্টে বেকসুর খালাস ১৯ জন
“আমরাই এখন গরু”— আলুর দামে ধস, চোখের জলে মাঠে নেমেছে গোঘাটের কৃষক পরিবার