“৮ জন আইএএসকে সস্তায় জমি! ১৪ বছরের আইনি লড়াইয়ে বড় জয়” — কলকাতা হাইকোর্টে ঐতিহাসিক রায়ে বাতিল বিতর্কিত বরাদ্দ

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে বড়সড় রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সরকারি জমি ‘অস্বচ্ছ ও বেআইনি’ভাবে অতি কম মূল্যে ৮ জন আইএএস আধিকারিককে বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় আদালত সেই হস্তান্তর বাতিল ঘোষণা করেছে। ২০১২ সালে জনস্বার্থে এই মামলা দায়ের করেছিলেন আইনজীবী অরুণাংশু চক্রবর্তী। মামলাটি ছিল মূলত Kolkata Metropolitan Development Authority-র বিরুদ্ধে, যেখানে অভিযোগ ওঠে যে সরকারি জমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও আইনগত প্রক্রিয়া মানা হয়নি। আদালতে দাখিল হওয়া নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালে দায়ের হওয়া রিট পিটিশন (WPA 20959/2012 এবং সংশ্লিষ্ট মামলা)–এ অভিযোগ করা হয়, নির্দিষ্ট কিছু সরকারি আধিকারিককে বাজারদরের তুলনায় অনেক কম মূল্যে জমি দেওয়া হয়েছে। এই বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় নীতিমালা লঙ্ঘন, পক্ষপাতিত্ব এবং স্বজনপোষণের অভিযোগও তোলা হয়।উল্লেখযোগ্যভাবে, এই মামলায় একাধিক পক্ষ যুক্ত ছিল এবং বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন ছিল। আদালতে শুনানির সময় বিভিন্ন দফায় নথি জমা, হলফনামা ও যুক্তিতর্কের মাধ্যমে বিষয়টি বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হয়। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ—প্রধান বিচারপতি সুজয় পল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেন—মামলার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে জানায়, সরকারি সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও সাংবিধানিক নীতির অনুসরণ বাধ্যতামূলক। আদালত পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট করে যে, এই ধরনের বরাদ্দ যদি ন্যায্য প্রতিযোগিতা বা স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ছাড়া করা হয়, তবে তা সংবিধানের সমতা নীতির পরিপন্থী। এর ফলে সংশ্লিষ্ট জমি বরাদ্দকে অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিল করা হয়। প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা এই মামলায় আবেদনকারী নিজেই ‘পার্সন-ইন-পার্সন’ হিসেবে আদালতে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে শুনানি, বিলম্ব ও আইনি জটিলতা সত্ত্বেও তিনি মামলাটি চালিয়ে যান। আইনজীবী মহলে এই রায়কে গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—সরকারি জমি বা সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় ভবিষ্যতে সরকারি জমি বরাদ্দ সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই রায় শুধু একটি মামলার নিষ্পত্তি নয়, বরং প্রশাসনিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত—যেখানে একজন সাধারণ আইনজীবীর লড়াই শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় নিশ্চিত করল।

Loading