সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: আজ ২১শে মার্চ, সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে মহাবিষুব দিবস বা Vernal Equinox—এক বিশেষ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা, যখন দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য প্রায় সমান হয়। এই দিনটিকে বসন্ত ঋতুর সূচনাও ধরা হয় উত্তর গোলার্ধে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, বছরে দু’বার—মার্চ ও সেপ্টেম্বর মাসে—এই মহাবিষুব ঘটে। এদিন পৃথিবীর অক্ষ এমনভাবে সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে না, ফলে সূর্যের কিরণ সরাসরি নিরক্ষরেখার উপর উলম্বভাবে পড়ে। এর ফলেই পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র দিন ও রাতের সময়কাল প্রায় সমান হয়ে যায়।
এই ঘটনাটি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈজ্ঞানিক ধারণা হলো Equinox, যার অর্থই হল ‘সমান রাত’। একই সঙ্গে, এটি পৃথিবীর কক্ষপথ ও অক্ষের ঝোঁকের একটি স্বাভাবিক প্রভাব, যা Earth’s axial tilt-এর কারণে ঘটে।
ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই দিনটি নানা ঐতিহ্য ও উৎসবের মাধ্যমে উদযাপিত হয়। পারস্য সংস্কৃতিতে এই দিনটি Nowruz হিসেবে পালিত হয়, যা নতুন বছরের সূচনাও নির্দেশ করে। অন্যদিকে জাপানে পালিত হয় Shunbun no Hi, যা প্রকৃতি ও পূর্বপুরুষদের স্মরণ করার দিন হিসেবে পরিচিত।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যদিও তাত্ত্বিকভাবে দিন-রাত সমান থাকার কথা, বাস্তবে সূর্যের আকার ও বায়ুমণ্ডলের প্রতিসরণের কারণে দিনের সময় সামান্য বেশি হতে পারে।
মহাবিষুব দিবস শুধুমাত্র একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা নয়, এটি মানবসভ্যতার ইতিহাসে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের গভীর সংযোগের প্রতীক। কৃষিকাজ, ঋতুচক্র এবং সংস্কৃতির নানা দিক এই দিনটির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
এদিন থেকে উত্তর গোলার্ধে ধীরে ধীরে দিন বড় হতে শুরু করে এবং গ্রীষ্মের দিকে অগ্রসর হয় পৃথিবী—নতুন জীবনের সম্ভাবনা ও পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে আসে এই মহাবিষুব দিবস।

![]()

More Stories
মায়ের দয়া” থেকে আধুনিক চিকিৎসা: জলবসন্ত নিয়ে কী বলছেন চিকিৎসক ডা. স্বপন সরকার
মহাকাশ গবেষণায় নতুন ইতিহাস: সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরল নাসার ‘ওরিয়ন’
প্রশান্ত মহাসাগরে ফের ‘সুপার এল নিনো’–র অশনিসঙ্কেত, বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তনের আশঙ্কা