সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ প্রায় চার দশকের ব্যবধানে ফের একবার ‘সুপার এল নিনো’–র মুখোমুখি হতে চলেছে বিশ্ব। ১৯৮২–৮৩, ১৯৯৭–৯৮ এবং ২০১৫–১৬—এই তিনটি সময়কালে শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’ পরিস্থিতির সাক্ষী থেকেছে পৃথিবী। এবার ২০২৬ সালেও তেমনই এক বিরল আবহাওয়াগত ঘটনাপ্রবাহ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
World Meteorological Organization–এর তথ্য অনুযায়ী, অতীতে এই ধরনের ঘটনাগুলির সময় বিশ্বজুড়ে গড় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। বিশেষ করে ২০১৫–১৬ সালে তা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছয়।
এবারও একই রকম পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছেন National Oceanic and Atmospheric Administration–এর বিজ্ঞানীরা। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে এবং বাণিজ্য বায়ুর প্রবাহ দুর্বল হয়ে পড়ছে, যা ‘এল নিনো’ গঠনের প্রধান পূর্বশর্ত।
বর্তমানে দক্ষিণবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন অংশে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক। এপ্রিলের শুরু পার হয়ে গেলেও তাপমাত্রা এখনও চরমে পৌঁছায়নি। কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে রয়েছে। মার্চ ও এপ্রিল মাসে একাধিক দিন বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড় হওয়ায় গরমের তীব্রতা কিছুটা কম অনুভূত হয়েছে। তবে আবহবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি সাময়িক এবং সামনে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
‘এল নিনো’ হল নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে সংঘটিত এক উষ্ণ আবহাওয়াগত ঘটনা, যার ফলে সমুদ্রের উষ্ণ জল পূর্ব ও মধ্য অংশে জমা হয় এবং ঠান্ডা জলের উত্থান বাধাপ্রাপ্ত হয়। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন ঘটে। সাধারণত ‘এল নিনো’ বছরে ভারতীয় উপমহাদেশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বৃষ্টি কমে যায় এবং গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
যখন এই ‘এল নিনো’ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী হয়, তখন তাকে ‘সুপার এল নিনো’ বলা হয়। এর প্রভাব শুধু একটি অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এশিয়া, আফ্রিকা, আমেরিকা-সহ বিশ্বের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আবহাওয়ার চরম রূপ দেখা দিতে পারে।
European Centre for Medium-Range Weather Forecasts–এর বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের সম্ভাব্য ‘সুপার এল নিনো’ গত একশো বছরের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী হতে পারে। এর ফলে কোথাও ভয়াবহ খরা, কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যা, আবার কোথাও ঝড়ের গতিপথে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
বিজ্ঞানীরা আরও আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতির ফলে ‘ক্লাইমেট রেজিম শিফট’ বা জলবায়ুর দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটতে পারে, যা কৃষি, জলসম্পদ ও বাস্তুতন্ত্রের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
৬ এপ্রিল প্রকাশিত রিপোর্টে National Oceanic and Atmospheric Administration জানিয়েছে, জুন থেকে অগস্টের মধ্যে ‘সুপার এল নিনো’ গঠনের সম্ভাবনা প্রায় ৬২ শতাংশ।
সব মিলিয়ে, আপাতত স্বস্তিদায়ক আবহাওয়ার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে এক সম্ভাব্য বৈশ্বিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাস। আবহবিদদের মতে, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা এবং আগাম প্রস্তুতি নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।

![]()

More Stories
মহাকাশ গবেষণায় নতুন ইতিহাস: সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরল নাসার ‘ওরিয়ন’
মহাকাশে নতুন ইতিহাস: আর্টেমিস–২ অভিযানের মহাকাশচারীদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রের বার্তালাপ
আকাশ এক, দায়িত্ব ভিন্ন—কমার্শিয়াল ও ফাইটার পাইলটদের কাজ, দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের বিস্তৃত তুলনামূলক চিত্র