গোঘাটে নারকেল বাগান নজর কাড়ছে, তিন ফসলি জমিতে নতুন পরীক্ষা, গৌতম ঘোষের

সোমালিয়া ওয়েব নিউজে: আরামবাগ মহকুমা-র কৃষিচিত্রে ধীরে ধীরে নতুন দিশা দেখাচ্ছে নারকেল ও ডাব চাষ। গোঘাট থানার অন্তর্গত ভাদুর অঞ্চলের শাঁখাটি গ্রামে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নজর কেড়েছে—চাষী গৌতম ঘোষ-এর তৈরি নারকেল বাগান এখন এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তিন ফসলি উর্বর জমিতে দীর্ঘদিন ধরে চাষ করলেও, সম্প্রতি হনুমান ও বাঁদরের উৎপাত ক্রমশ বাড়তে থাকায় বিকল্প চাষের কথা ভাবতে বাধ্য হন তিনি। “দল দল হনুমানের অত্যাচারে ফসল বাঁচানো কঠিন হয়ে উঠেছিল,” জানিয়েছেন গৌতমবাবু। সেই কারণেই প্রায় আট বিঘারও বেশি জমিতে নারকেল চাষের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন তিনি। এই বাগানে তিনি রোপণ করেছেন বিভিন্ন উন্নত প্রজাতির চারা—গঙ্গা বর্ধন, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ান জাত। উত্তর ২৪ পরগনা থেকে সংগৃহীত এই চারাগুলির দাম ছোট চারা প্রতি প্রায় ৮০০ টাকা এবং বড় চারা ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। সব মিলিয়ে প্রায় ৯০০টি গাছ বসানো হয়েছে। চাষের শুরুতেই জমিকে সুরক্ষিত করতে জাল, খুঁটি ও প্রাচীর দিয়ে পুরো ৮বিঘা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। প্রতিটি গাছ বসানোর জন্য ৫ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে গোবর সার দিয়ে চারা রোপণ করা হয়েছে। নিয়মিত সেচ ও প্রায় ১২ ধরনের পুষ্টি সার ব্যবহার করে পরিচর্যা চালানো হচ্ছে। মাটি পরীক্ষার পরই এই চাষের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। যদিও কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও সরাসরি সহায়তা পাননি গৌতমবাবু। তিনি জানান, আগে ভর্তুকির কথা শুনলেও বর্তমানে সেই সুবিধা বন্ধ রয়েছে বলে জানতে পেরেছেন। কোনও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ না থাকলেও, নিজস্ব উদ্যোগে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে ও অভিজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি এই চাষ শুরু করেছেন। এই অঞ্চলে আগে তেমনভাবে ডাব বা নারকেল চাষের প্রচলন না থাকলেও, গৌতমবাবুর এই উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। তিনি আশা করছেন, তিন বছরের মধ্যে গাছ থেকে ফলন শুরু হবে। ইতিমধ্যেই ছোট পরিসরে ডাব বিক্রি করে তিনি সফলতার ইঙ্গিত পেয়েছেন—চৈত্র মাসে প্রতি ডাব ৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। সব মিলিয়ে, প্রতিকূলতার মধ্যেও বিকল্প কৃষি পথে হাঁটার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠছেন গৌতম ঘোষ। তাঁর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে এলাকার অন্যান্য চাষীদেরও অনুপ্রাণিত করতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

Loading