গোঘাটে হাইব্রিড বীজ গবেষণায় নতুন দিগন্ত—একই গাছে বেগুন-টমেটো ফলনের সাফল্য

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: হুগলি জেলার গোঘাট ব্লকের তেলিগ্রাম অঞ্চলে শুরু হয়েছে এক অভিনব কৃষি গবেষণা প্রকল্প, যা ইতিমধ্যেই কৃষি মহলে সাড়া ফেলেছে। বিভিন্ন সবজি ও ফসলের উন্নতমানের বীজ তৈরির লক্ষ্যে এই গবেষণা চালানো হচ্ছে, যেখানে মূল ফোকাস রাখা হয়েছে ফলন বৃদ্ধি ও পুষ্টিগুণের উন্নতির ওপর। এই প্রকল্পে ফুলকপি, বাঁধাকপি, কুমড়ো, বেগুন, ভুট্টা, ঢেঁড়স সহ একাধিক ফসল নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, একটি ভুট্টা গাছ থেকেই তিন থেকে পাঁচটি পর্যন্ত ভুট্টা উৎপাদনের সাফল্য অর্জিত হয়েছে, যা কৃষি ক্ষেত্রে এক বড় অগ্রগতি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গবেষণার অন্যতম আকর্ষণ লাউয়ের বিভিন্ন প্রজাতি নিয়ে কাজ। নানা রকম আকৃতি ও গুণসম্পন্ন লাউ উৎপাদনের লক্ষ্যে ক্রস-ব্রিডিং পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ফসলের মধ্যে ক্রসিং বা সংকরায়ণের মাধ্যমে নতুন বৈচিত্র্য তৈরির কাজও চলছে জোরকদমে। এই গবেষণার মূল লক্ষ্য হল এফ-ওয়ান (F1) হাইব্রিড বীজ তৈরি করা, যা কম খরচে বেশি ফলন দিতে সক্ষম। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন এবং উৎপাদনশীলতাও বাড়বে। গবেষণার তত্ত্বাবধানে রয়েছেন প্রণব বর্মন, যিনি বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি পাশ করেছেন। তাঁর নেতৃত্বেই চলছে এই উদ্ভাবনী প্রকল্প। তিনি জানান, বুনো বেগুন গাছের সঙ্গে টমেটো গাছ সংযুক্ত করে এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে একই গাছে একই সময়ে বেগুন ও টমেটো—দুই ধরনের ফলন পাওয়া যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই পরীক্ষায় সফলতা মিলেছে। এই পুরো গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জৈব পদ্ধতিকে। রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তার জন্য আলাদা জৈব সার তৈরির চেম্বারও গড়ে তোলা হয়েছে। প্রণববাবু নিজে দেখিয়েছেন কীভাবে মাত্র নয় দিনের বেগুন গাছের সঙ্গে টমেটো গাছ সংযুক্ত করা হয়েছে। এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এতে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সব মিলিয়ে, গোঘাটের এই গবেষণা প্রকল্প ভবিষ্যতের কৃষি ব্যবস্থায় এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে। উন্নত বীজ, জৈব পদ্ধতি এবং বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে এই উদ্যোগ রাজ্যের কৃষকদের জন্য আশার আলো হয়ে উঠতে পারে।

Loading