সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: পশু নিধন সংক্রান্ত আইন কার্যকর করতে কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। পশ্চিমবঙ্গ পশু হত্যা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০ কার্যকর করার লক্ষ্যে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের তরফে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। নবান্ন থেকে প্রকাশিত ওই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সরকারি অনুমতি ছাড়া এখন থেকে গরু, বলদ, ষাঁড়, মোষ বা বাছুর নিধন করা যাবে না।
১৩ মে ২০২৬ তারিখে জারি হওয়া এই পাবলিক নোটিশে বলা হয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রাসঙ্গিক রায়ের ভিত্তিতে এই আইন কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কোনও পশু জবাই করার আগে সংশ্লিষ্ট পৌরসভা বা পঞ্চায়েত সমিতির প্রধান এবং সরকারি পশু চিকিৎসকের যৌথ অনুমোদন নিতে হবে। শুধুমাত্র সেই ক্ষেত্রেই অনুমতি মিলবে, যদি পশুটি ১৪ বছরের বেশি বয়সী হয়, কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে অথবা গুরুতর অসুস্থ ও অক্ষম হয়ে পড়ে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, অনুমতি পেলেও পশু নিধন শুধুমাত্র নির্দিষ্ট মিউনিসিপ্যাল স্লটার হাউস বা প্রশাসন চিহ্নিত বৈধ কসাইখানাতেই করা যাবে। কোনও খোলা বা জনবহুল এলাকায় পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই নিয়ম অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দোষী ব্যক্তির ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি এই আইনের আওতায় অপরাধকে ‘কগনিজেবল অফেন্স’ বা গ্রেফতারযোগ্য অপরাধ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ব্যক্তি ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করতে পারবেন। এছাড়াও প্রশাসনের অনুমোদিত আধিকারিক বা পশু চিকিৎসকের পরিদর্শনে বাধা সৃষ্টি করাও আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে জানানো হয়েছে।
রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, আইন মেনে পশু নিধন ও অবৈধ কসাইখানা নিয়ন্ত্রণে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশের দাবি, এই নিয়ম কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা ও বাস্তব প্রয়োগের দিকে নজর রাখতে হবে।
![]()

More Stories
‘লক্ষীর ভান্ডার’ প্রকল্পের উপভোক্তারাই এবার সরাসরি নতুন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পাবেন; মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল
স্কুলে প্রার্থনা সংগীত বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দেমাতরম’
বিধানসভার অধ্যক্ষ পদে রথীন্দ্র বোস, শুভেন্দুর পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা