রাজস্ব বৃদ্ধি ও আর্থিক সংস্কারে জোর, দপ্তরের দায়িত্ব নিয়েই বার্তা অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের

“কর নয়, রাজস্ব বৃদ্ধিতেই জোর: দায়িত্ব নিয়েই অর্থনৈতিক সংস্কারের বার্তা স্বপন দাশগুপ্তের”

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ রাজ্যের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করে তুলতে করের বোঝা না বাড়িয়ে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানালেন রাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। আজ নবান্নে অর্থ দপ্তরের দায়িত্ব গ্রহণের পর সচিব ও ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে বর্তমানে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির একাধিক সুযোগ থাকলেও সেগুলির সবকটি এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। তাই কোথায় কোথায় রাজস্ব সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে এবং কীভাবে সেই ক্ষেত্রগুলিকে আরও কার্যকর করা যায়, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, সাধারণ মানুষের উপর নতুন করের চাপ সৃষ্টি না করেই রাজস্ব আয় বাড়ানোর পথ খুঁজতে হবে। প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, কর আদায় ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং রাজস্ব ফাঁকি রোধের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) চালু হওয়ার পর থেকে রাজ্যের নিজস্ব কর আরোপের ক্ষমতা অনেকটাই সীমিত হয়েছে। ফলে রাজ্য বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক ও নীতিগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। তাঁর মতে, জিএসটি ব্যবস্থার ফলে রাজ্যের রাজস্ব পরিকল্পনায় নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, যা বিবেচনায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন।

কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার গুরুত্বের উপরও জোর দেন স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্প, পরিকাঠামো নির্মাণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কেন্দ্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। এ বিষয়ে আগামী দিনে কেন্দ্র-রাজ্য সহযোগিতার ভিত্তিতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

অর্থ দপ্তরের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই রাজস্ব বৃদ্ধি, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং উন্নয়নমুখী পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়ে অর্থমন্ত্রীর এই বার্তা প্রশাসনিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর না বাড়িয়ে রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা আনতে পারলে রাজ্যের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

Loading