নীতি আয়োগের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্লক কর্মসূচিতে একমাত্র অনুপস্থিত পশ্চিমবঙ্গ, রাজ্যসভায় কেন্দ্রের তথ্য ঘিরে বিতর্ক

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: নীতি আয়োগের ‘অ্যাসপিরেশনাল ব্লকস প্রোগ্রাম’ (ABP)-এ অংশগ্রহণ না করা দেশের একমাত্র রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যসভায় উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় সরকার এই তথ্য জানিয়েছে। রাজ্যসভার সদস্য শমীক ভট্টাচার্যের প্রশ্নের উত্তরে পরিকল্পনা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী রাও ইন্দরজিৎ সিং জানান, নীতি আয়োগের উদ্যোগে চালু হওয়া অ্যাসপিরেশনাল ব্লকস প্রোগ্রামে পশ্চিমবঙ্গ এখনও অংশ নেয়নি। কেন্দ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও কারণও জানায়নি। কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচির প্রাথমিক পর্যায়ে পশ্চিমবঙ্গের ১০টি জেলার মোট ২৯টি ব্লককে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এই ব্লকগুলির মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট-২ ও ঠাকুরপুকুর-মহেশতলা, বাঁকুড়ার ইন্দপুর, খাতড়া-১ ও ওন্দা, বীরভূমের খয়রাশোল, ময়ূরেশ্বর-১ ও নানুর, উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া, গোলপোখর, ইসলামপুর, হেমতাবাদ ও ইটাহার, মালদার চাঁচল-১, হবিবপুর ও হরিশ্চন্দ্রপুর-২, ঝাড়গ্রামের বিনপুর ও গোপীবল্লভপুর এলাকার একাধিক ব্লক, পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ি ও শালবনি, মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা-১ ও লালগোলা এবং পুরুলিয়ার বলরামপুর, হুড়া ও কাশীপুর।

অ্যাসপিরেশনাল ব্লকস প্রোগ্রাম মূলত দেশের পিছিয়ে থাকা ব্লকগুলির শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, কৃষি, অবকাঠামো এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মতো সূচকে দ্রুত উন্নয়ন ঘটানোর লক্ষ্যে চালু করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সমন্বিত বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই ব্লকগুলির উন্নয়নই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য। উত্তরে আরও জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গকে এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে নীতি আয়োগ একাধিকবার চিঠি ও সরকারি যোগাযোগ করেছে। কেন্দ্রের দাবি, রাজ্য সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ এই প্রকল্পে যোগ দেয়নি। রাজনৈতিক মহলের মতে, আগের সরকারের আমলে বিষয়টি কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের নতুন বিতর্ক উসকে দিতে পারে। 

নীতি আয়োগ পরিচালিত Aspirational Blocks Programme (ABP)-এ অংশ না নেওয়া দেশের একমাত্র রাজ্য ছিল তৃণমূল শাসিত পশ্চিমবঙ্গ। অথচ এই কর্মসূচির আওতায় পশ্চিমবঙ্গের ১০টি জেলার ২৯টি পিছিয়ে পড়া ব্লককে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, কৃষি, কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ ছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট থেকে মালদহ, মুর্শিদাবাদ, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, বাঁকুড়া, বীরভূম এবং পুরুলিয়ার মতো জেলার সাধারণ মানুষ তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছেন—কেন তাঁরা এই অতিরিক্ত উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলেন? কেন্দ্রের দাবি, নীতি আয়োগ একাধিকবার রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও এই প্রকল্পে অংশ না নেওয়ার কোনও যথাযথ সরকারি কারণ জানানো হয়নি। অ্যাসপিরেশনাল ব্লকস প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য ছিল পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলিকে দ্রুত উন্নয়নের মূলস্রোতে নিয়ে আসা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিশু ও মাতৃপুষ্টি, কৃষি উৎপাদন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং মৌলিক পরিকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নয়নের গতি বাড়ানোই ছিল এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য। যদি রাজনৈতিক অবস্থান মানুষের উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে তার সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকেই। উন্নয়নের সুযোগ কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে হওয়া উচিত। বছরের পর বছর ধরে চলা এই ধরনের অব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানানো এবং উন্নয়নকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। জনগণের ভরসার যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করাই একটি দায়িত্বশীল সরকারের প্রধান কর্তব্য।

Screenshot
Screenshot

Loading