পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদে প্রথমবার বিজেপির বোর্ড, সভাধিপতি নির্বাচিত বামদেব গুছাইত

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল পূর্ব মেদিনীপুরে। প্রথমবারের জন্য কোনও জেলা পরিষদের পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করল ভারতীয় জনতা পার্টি। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদে আজ থেকে বিজেপির সদস্যদের নেতৃত্বে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। জেলা পরিষদের সদস্য ও সদস্যাগণ সর্বসম্মতিক্রমে শ্রী বামদেব গুছাইতকে সভাধিপতি এবং শ্রীমতী বাঁসুরি পণ্ডিতকে সহকারী সভাধিপতি হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। এই ঘটনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবনির্বাচিত দুই জনপ্রতিনিধিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও গৈরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দক্ষ নেতৃত্ব, জনসেবার প্রতি অঙ্গীকার এবং উন্নয়নমুখী দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সার্বিক অগ্রগতি আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ হবে। জনগণের আশীর্বাদে উন্নয়নের এই যাত্রা আরও শক্তিশালী হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। নবনির্বাচিত সভাধিপতি বামদেব গুছাইত দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তিনি শ্রীশ্রী নিগমানন্দ পরমহংসদেবের আদর্শে অনুপ্রাণিত এবং তাঁর একনিষ্ঠ শিষ্য হিসেবে পরিচিত। গুরুদেবের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও ভক্তিভাব তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের অন্যতম ভিত্তি। ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, জীবনের নানা সিদ্ধান্তে তিনি নিগমানন্দ পরমহংসদেবের আদর্শকেই পথপ্রদর্শক হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং সেই ভাবধারাতেই জীবনযাপন করেন। জামাইষষ্ঠীর দিনও তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা যায়। জানা গিয়েছে, ওই দিন তিনি প্রথমে গুরুদেবের উদ্দেশে ভোগ নিবেদন করেন এবং তারপর প্রসাদ গ্রহণ করেন। তাঁর মতে, গুরুদেবের আশীর্বাদই জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁকে শক্তি ও প্রেরণা জুগিয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদে বিজেপির প্রথম বোর্ড গঠনকে দলের কর্মী-সমর্থকরা ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন। তাঁদের দাবি, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে জেলার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে প্রশাসন আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর বামদেব গুছাইত শান্তিকুঞ্জে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পিতা-মাতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের আশীর্বাদ গ্রহণ করেন। সৌজন্য সাক্ষাতের এই মুহূর্তকে ঘিরে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ ও আবেগের সঞ্চার হয়। রাজনৈতিক জীবনের নতুন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রবীণদের আশীর্বাদকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বলেই ঘনিষ্ঠ মহলের অভিমত। রাজনৈতিক মহলের মতে, পূর্ব মেদিনীপুরে এই নতুন সমীকরণ রাজ্যের পঞ্চায়েত রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। জেলা পরিষদের নতুন নেতৃত্ব কীভাবে উন্নয়ন, জনকল্যাণ এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিয়ে যায়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে জেলার মানুষের।

Loading