শিক্ষা, চিকিৎসা ও মানবসেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত: কার্তিক মহারাজকে ঘিরে বিতর্কের বিপরীতে উঠে আসছে কাজের বাস্তব চিত্র


সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ
পরম পূজনীয় পদ্মশ্রী শ্রীমৎ স্বামী প্রদীপ্তানন্দজী মহারাজ, যিনি সাধারণ মানুষের কাছে কার্তিক মহারাজ নামে অধিক পরিচিত, তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ উঠলেও তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের বাস্তব চিত্র ভিন্ন বার্তাই তুলে ধরে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নারী ক্ষমতায়ন ও সমাজের প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে তাঁর বহুমুখী উদ্যোগ আজ বহু মানুষের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মুর্শিদাবাদ জেলার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় তাঁর প্রতিষ্ঠিত ১৫টি বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই সংখ্যালঘু ও আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত পরিবারের সন্তান। ফলে, ধর্মীয় বিভাজনের অভিযোগের বিপরীতে তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির ছাত্রছাত্রীদের সামাজিক বিন্যাস অন্য এক বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়।

শুধু বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি কার্তিক মহারাজ। সমাজের পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলির শিশুদের জন্য আবাসিক শিক্ষাব্যবস্থারও ব্যবস্থা করেছেন তিনি। বর্তমানে প্রায় ১১০০ আদিবাসী ও দরিদ্র পরিবারের ছাত্রছাত্রী আবাসিকভাবে সেখানে বসবাস করছে। তাদের নিয়মিত আহার, শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ ও জীবন গঠনের শিক্ষাও প্রদান করা হয়।

চিকিৎসা ক্ষেত্রেও তাঁর উদ্যোগ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটিতে প্রতিদিন বহু মানুষ চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণ করেন। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে রোগীর ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন করা হয় না; চিকিৎসার মূল ভিত্তি মানবসেবা।

নারী স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সেলাই, হস্তশিল্প ও অন্যান্য কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মুর্শিদাবাদের গ্রামীণ এলাকার বহু মহিলা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। সমাজের দুর্বল অংশকে শুধু সহায়তা নয়, আত্মনির্ভর করে তোলাই এই উদ্যোগগুলির অন্যতম লক্ষ্য বলে জানা গিয়েছে।

কার্তিক মহারাজ বারবার “শিব জ্ঞানে জীব সেবা” দর্শনের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, মানুষের সেবাই প্রকৃত ধর্মচর্চা। গীতার আদর্শে সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা ও মানবকল্যাণমূলক কাজে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কারণে বহু মানুষের কাছে তিনি শুধুমাত্র একজন সন্ন্যাসী নন, বরং একজন সমাজসংস্কারক ও মানবতাবাদী সেবক হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছেন।

যদিও তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আদর্শগত বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে, তবুও তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন সমাজসেবামূলক উদ্যোগের সুফল ভোগ করছেন সমাজের নানা শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের মানুষ। সমর্থকদের মতে, তাঁর কর্মকাণ্ডের মূল ভিত্তি ধর্মীয় বিভাজন নয়, বরং মানবসেবা ও সমাজকল্যাণ।

Loading