সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: আজ, ৬ আগস্ট, রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবস। ভারতীয় জাতীয়তাবাদের অন্যতম অগ্রদূত, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সমাজসংস্কারক এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রাথমিক যুগের অন্যতম পথিকৃৎ এই মহান ব্যক্তিত্ব ১৯২৫ সালের ৬ আগস্ট পরলোকগমন করেন। তাঁর মৃত্যুতে ভারতবর্ষ এক দূরদর্শী নেতা, অনন্য বক্তা এবং জনজাগরণের এক মহান পুরোধাকে হারিয়েছিল।
১৮৪৮ সালের ১০ নভেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতীয়দের মধ্যে প্রথমদিকের আই.সি.এস. (Indian Civil Service) পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের একজন ছিলেন। কিন্তু বিতর্কিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। এই ঘটনাই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ব্যক্তিগত সাফল্যের পথ ছেড়ে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে দেশের সেবায় এবং ভারতীয়দের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিয়োজিত করেন।
তিনি ১৮৭৬ সালে ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (Indian Association) প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজকে জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করেন এবং সর্বভারতীয় জনমত গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীকালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশেও তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দুইবার কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং সাংবিধানিক পদ্ধতিতে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন।
সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন এক অসাধারণ বক্তা। তাঁর জ্বালাময়ী ভাষণ হাজার হাজার মানুষকে জাতীয়তাবাদের আদর্শে উদ্বুদ্ধ করত। তিনি সম্পাদনা করতেন প্রভাবশালী সংবাদপত্র [দি বেঙ্গলি] The Bengalee, যার মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকারের অন্যায় নীতির বিরুদ্ধে তিনি ধারাবাহিকভাবে কলম ধরেন এবং দেশবাসীর মধ্যে স্বাধীনতার চেতনা, রাজনৈতিক সচেতনতা ও আত্মমর্যাদাবোধ জাগিয়ে তোলেন। শিক্ষা বিস্তার, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান ছিল স্মরণীয়।
তাঁর অসামান্য দেশপ্রেম, দূরদর্শী নেতৃত্ব, জনসেবা এবং জাতীয় চেতনা গঠনে ঐতিহাসিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে “রাষ্ট্রগুরু” উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে তিনি এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি পরবর্তী প্রজন্মের অসংখ্য স্বাধীনতা সংগ্রামীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ছিলেন।
রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবসে আমরা তাঁর পবিত্র স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র প্রণাম জানাই। তাঁর আদর্শ, দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক চেতনা, সাংবিধানিক সংগ্রামের পথ এবং জাতির প্রতি নিঃস্বার্থ আত্মনিবেদন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। নতুন প্রজন্ম তাঁর জীবন ও কর্ম থেকে দেশপ্রেম, নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ এবং জনসেবার অনুপ্রেরণা গ্রহণ করুক—এই হোক তাঁর প্রয়াণ দিবসে আমাদের আন্তরিক অঙ্গীকার।

![]()

More Stories
অসংগঠিত ক্ষেত্রের মহিলাদের বেতন-সহ মাতৃত্বকালীন ছুটির পক্ষে সওয়াল স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে জোর, কেন্দ্রে বৈঠক; রাজ্যে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ৯ দফা দাবি প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের
রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য ৩৮% ডিএ-ডিআর মঞ্জুর, অর্থ দফতরের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি