গ্রামীণ স্বাস্থ্য সহায়কদের উপর কড়া নজরদারিতে জোর নতুন বিজেপি সরকারের, গুরুত্ব প্রশিক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে


সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবায় গ্রামীণ স্বাস্থ্য সহায়ক বা তথাকথিত ‘কোয়াক’দের ভূমিকা অস্বীকার করা না গেলেও, তাঁদের কার্যকলাপের উপর আরও কড়া নজরদারি চালাতে চায় নতুন বিজেপি সরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগের সরকারের মতো তাঁদের আর অতিরিক্ত প্রাধান্য দেওয়া হবে না। তবে রাতারাতি এই ব্যবস্থা তুলে দেওয়াও সম্ভব নয়। বরং তাঁরা যাতে অন্যায্য চিকিৎসা না করেন, তা নিশ্চিত করাই স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রধান লক্ষ্য।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায়, দেশের বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চলে এখনও বিপুল সংখ্যক মানুষ এই স্বাস্থ্য সহায়কদের পরিষেবার উপর নির্ভরশীল। তাই তাঁদের সম্পূর্ণ বিলোপ করা বাস্তবসম্মত নয়। তবে কোয়াকদের একাংশের মধ্যে ‘ম্যালপ্র্যাকটিস’-এর প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক ও অন্যান্য ওষুধ ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ করাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।

গ্রামীণ স্বাস্থ্য সহায়কদের সংগঠনগুলিও সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির পক্ষে মত দিয়েছে। প্রোগ্রেসিভ রুরাল মেডিক্যাল প্র্যাক্টিশনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি দিলীপকুমার পান বলেন, গ্রামীণ স্বাস্থ্য সহায়কদের উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকুক, পাশাপাশি তাঁদের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হোক।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ পল্লি চিকিৎসক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অরুণকান্তি ঘোষের মতে, বর্তমানে নার্সিং কলেজগুলিতে যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তা যথেষ্ট নয়। তাঁর দাবি, উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রামীণ স্বাস্থ্য সহায়কদের কাজের সীমাবদ্ধতা নির্দিষ্ট করা প্রয়োজন এবং সরকারি স্তরে তাঁদের কাজের অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা উচিত।

স্বাস্থ্য মহলের একাংশের মতে, গ্রামীণ স্বাস্থ্য সহায়কদের সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে তাঁদের কাজের পরিধি নির্দিষ্ট করে কার্যকর নজরদারির আওতায় আনা এখন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, গ্রামাঞ্চলে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থার সঙ্গে এই স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

Loading