সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ আজ, ২৯ জুন, ‘বাংলার বাঘ’ নামে পরিচিত মহান শিক্ষাবিদ, বিচারপতি ও সমাজসংস্কারক স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়-এর জন্মদিবস। ১৮৬৪ সালের এই দিনে কলকাতা-তে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর অসাধারণ মেধা, নির্ভীক ব্যক্তিত্ব এবং শিক্ষাক্ষেত্রে যুগান্তকারী অবদানের জন্য আজও তিনি বাংলার গর্ব।
তাঁকে ‘বাংলার বাঘ’ বলা হতো শুধুমাত্র তাঁর দৃঢ়চেতা মনোভাবের জন্য নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান এবং জাতীয় স্বার্থে নির্ভীক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। তিনি বিশ্বাস করতেন—একটি জাতির প্রকৃত শক্তি তার শিক্ষিত সমাজের মধ্যেই নিহিত।
মাত্র অল্প বয়সেই গণিত, আইন ও বিজ্ঞানে অসামান্য কৃতিত্ব অর্জন করেন আশুতোষ মুখোপাধ্যায়। পরবর্তীকালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য হিসেবে একাধিকবার দায়িত্ব পালন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ নেন। তাঁর সময়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান গবেষণা, ভারতীয় ভাষা, ইতিহাস ও সাহিত্যচর্চায় নতুন দিগন্তের সূচনা হয়।
স্যার আশুতোষের জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল তরুণ বিজ্ঞানী চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রমন-এর প্রতিভা চিনে নেওয়া। তখন রমন সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন। আশুতোষ মুখোপাধ্যায় তাঁকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সুযোগ করে দেন এবং বিজ্ঞানচর্চায় সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করতে উৎসাহিত করেন। পরবর্তীকালে সি. ভি. রমন আলোর বিচ্ছুরণ নিয়ে গবেষণার জন্য নোবেল পুরস্কার ১৯৩০ (পদার্থবিজ্ঞান) লাভ করেন। এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়, প্রতিভাকে চিহ্নিত করে তাকে বিকশিত করার অসাধারণ দূরদৃষ্টি ছিল স্যার আশুতোষের।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-কে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদানের ক্ষেত্রে স্যার আশুতোষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তখনও রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার পাননি। অনেকের আপত্তি সত্ত্বেও আশুতোষ তাঁর সাহিত্যপ্রতিভার যথাযথ মূল্যায়ন করেছিলেন। পরবর্তীকালে বিশ্বকবি নোবেল পুরস্কার অর্জন করলে তাঁর সেই দূরদৃষ্টির স্বীকৃতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ব্রিটিশ শাসনামলে উচ্চপদে থেকেও তিনি কখনও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। প্রশাসনিক কিংবা শিক্ষানীতির প্রশ্নে তিনি যুক্তি ও ন্যায়ের পক্ষে অটল ছিলেন। এই আপসহীন মনোভাবই তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে ‘বাংলার বাঘ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় শুধু একজন বিচারপতি বা শিক্ষাবিদ নন; তিনি ছিলেন আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম স্থপতি, জাতীয় আত্মমর্যাদার প্রতীক এবং অসংখ্য মেধাবী ছাত্র-গবেষকের পথপ্রদর্শক। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়—যোগ্যতার মূল্যায়ন, শিক্ষার প্রসার এবং ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানই একটি জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
আজ তাঁর জন্মদিবসে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি সেই মহান মানুষকে, যাঁর কর্ম ও আদর্শ আজও বাংলার শিক্ষা ও সংস্কৃতির ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছে।

![]()

More Stories
৪৬-এর মহান শহীদদের স্মরণে সন্তোষপুর লেকে গণতর্পণ
অভয়ার দেহ সৎকারের অভিযোগে নির্মল ঘোষ ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতে
কন্যারত্ন প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণ