সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: আজ পবিত্র স্নানযাত্রা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি তিথি। জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমার দিনে শ্রী জগন্নাথ মন্দির-এ মহাসমারোহে পালিত হয় এই উৎসব। এই দিনেই ভগবান জগন্নাথ দেব, বড়ভাই বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রা-কে গর্ভগৃহ থেকে বের করে স্নানবেদীতে এনে সর্বসাধারণের দর্শনের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর ১০৮টি পবিত্র কলসের জল দিয়ে দেবত্রয়ীর মহাস্নান সম্পন্ন হয়।
এই স্নানযাত্রার পরই শুরু হয় রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি। তাই এই উৎসবকে রথযাত্রার সূচনা পর্ব বলেও মনে করা হয়।
পুরাণে বর্ণিত আছে, রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন যখন ভগবান জগন্নাথের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন, তখন দেবমূর্তির আবির্ভাব তিথি হিসেবে জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমায় প্রথম মহাস্নানের আয়োজন করা হয়। সেই প্রথাই আজও অব্যাহত।
আরও একটি জনপ্রিয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বছরের এই একদিন ভগবান জগন্নাথ নিজেই সকল ভক্তকে দর্শন দেওয়ার জন্য গর্ভগৃহ থেকে বাইরে আসেন। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এই দিন দেবদর্শনের সুযোগ পান। তাই এই দিনকে ‘পতিতপাবন দর্শন’-এর দিন বলেও অনেক ভক্ত মনে করেন।
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, ১০৮ কলস ঠান্ডা জল দিয়ে দীর্ঘক্ষণ স্নান করার পর ভগবান জগন্নাথ জ্বরে আক্রান্ত হন। এই ঘটনাকে বলা হয় ‘অনবসর’ বা ‘অনাসর’।
প্রায় পনেরো দিন দেবত্রয়ী জনসমক্ষে দর্শন দেন না। এই সময় তাঁরা বিশ্রামে থাকেন এবং তাঁদের জন্য বিশেষ ভেষজ ওষুধ, ফল ও হালকা ভোগ নিবেদন করা হয়। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, দেবতারাও মানুষের মতো লীলার মাধ্যমে অসুস্থ হন এবং সুস্থ হয়ে আবার ভক্তদের দর্শন দেন।
রথযাত্রার সঙ্গে যোগসূত্র
অনবসর পর্ব শেষ হলে অনুষ্ঠিত হয় ‘নবযৌবন দর্শন’। বিশ্বাস করা হয়, অসুস্থতা কাটিয়ে ভগবান নতুন রূপে ভক্তদের সামনে আবির্ভূত হন। এরপর আসে সেই প্রতীক্ষিত রথযাত্রা, যখন জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা তিনটি পৃথক রথে চড়ে মাসির বাড়ি, অর্থাৎ গুন্ডিচা মন্দির-এর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
স্নানযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি মানবতার এক গভীর বার্তাও বহন করে। ঈশ্বরও ভক্তদের মতো সুখ-দুঃখ, অসুস্থতা ও বিশ্রামের লীলায় অংশ নেন—এই বিশ্বাস ভক্তদের সঙ্গে ভগবানের এক নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলে।
এই উৎসব আমাদের শেখায়—শরীরের যত্ন, বিশ্রাম এবং পুনরুজ্জীবন যেমন মানুষের জীবনে প্রয়োজন, তেমনি ঈশ্বরের লীলাতেও সেই মানবিক অনুভূতির প্রতিফলন রয়েছে।
আজকের এই পবিত্র স্নানযাত্রার দিনে ভক্তদের প্রার্থনা—শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেব সকলের জীবনে সুখ, শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি বর্ষণ করুন। তাঁর কৃপায় দূর হোক সকল অশুভ শক্তি, প্রতিষ্ঠিত হোক প্রেম, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের আদর্শ।
জয় জগন্নাথ।

![]()

More Stories
কালপাক্কমে বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক তাপভিত্তিক হাইড্রোজেন উৎপাদন কেন্দ্রের উদ্বোধন
শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টে অনুদান মামলায় ৮ জন গ্রেপ্তার
ভারত ট্যাক্সির সূচনা করবেন অমিত শাহ, ‘চালকই মালিক’ মডেলে নতুন উদ্যোগ