অধ্যাপক হরিপদ ভারতীর ১০৭তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন: প্রকাশিত হলো ‘মাস্টারমশাই’-এর প্রচ্ছদ

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রথম রাজ্য সভাপতি, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও সমাজচিন্তক অধ্যাপক হরিপদ ভারতী-র ১০৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে গতকাল এক গম্ভীর ও মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

হরিপদ ভারতী স্মৃতিরক্ষা কমিটি-র উদ্যোগে এবং ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ-এর শ্রীনাথ হল-এ অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ ও সমাজের নানা স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিত্ব।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. স্বপন দাশগুপ্ত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাহুল সিনহা, স্বামী বিশ্বাত্মানন্দজী মহারাজ (দিলীপ মহারাজ), রাজ্য বিজেপির একাধিক বিধায়ক এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অধ্যাপক হরিপদ ভারতীর জীবন, আদর্শ ও কর্মকে কেন্দ্র করে লেখিকা স্বাতী সেনাপতি রচিত গ্রন্থ ‘মাস্টারমশাই’-এর প্রচ্ছদ উন্মোচন। গ্রন্থটির প্রচ্ছদ উন্মোচন করেন ড. স্বপন দাশগুপ্ত। উপস্থিত অতিথিদের মতে, এই গ্রন্থ কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনী নয়, বরং একজন আদর্শ শিক্ষক, সংগঠক ও সমাজনির্মাতার জীবনসংগ্রামের দলিল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।

লেখিকা স্বাতী সেনাপতি সম্পর্কে অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় যে, তিনি নিজে একজন আইনের ছাত্রী এবং সম্প্রতি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এল.এল.এম. (LL.M.) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পাশাপাশি তিনি একজন রাষ্ট্রবাদী লেখিকা হিসেবে পরিচিত। জাতীয় চেতনা, ইতিহাস, সমাজ ও মূল্যবোধভিত্তিক নানা বিষয় নিয়ে তাঁর লেখালেখি ইতিমধ্যেই পাঠকমহলে পরিচিতি লাভ করেছে। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, অধ্যাপক হরিপদ ভারতীর জীবন ও আদর্শকে তিনি গবেষণাধর্মী ও তথ্যনির্ভর উপস্থাপনার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হবেন।

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে অধ্যাপক হরিপদ ভারতীর শিক্ষা, আদর্শ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনজীবনে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, শিক্ষক হিসেবে যেমন তিনি অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর জীবনে আলোর দিশা দেখিয়েছেন, তেমনি রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও নীতি, আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সন্ন্যাসী, রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্টজনেরা অধ্যাপক হরিপদ ভারতীর আদর্শকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তাঁদের মতে, সমাজগঠন, দেশপ্রেম, শিক্ষার প্রসার এবং মূল্যবোধভিত্তিক জনজীবনের যে বার্তা তিনি রেখে গিয়েছেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

১০৭তম জন্মজয়ন্তীতে অধ্যাপক হরিপদ ভারতীকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে উপস্থিত সকলেই তাঁর আদর্শ অনুসরণের অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে লেখিকা স্বাতী সেনাপতির রচিত ‘মাস্টারমশাই’ গ্রন্থটি অধ্যাপক হরিপদ ভারতীর জীবন, দর্শন ও কর্মকে নতুন প্রজন্মের সামনে আরও সুসংগঠিতভাবে তুলে ধরবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়।

Loading