প্রায় দুই দশক পর কলকাতায় তসলিমা নাসরিন, প্রত্যাবর্তন ঘিরে নতুন করে চর্চা


সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখক ও কবি তসলিমা নাসরিন প্রায় দুই দশক পর কলকাতায় ফিরছেন বলে জানিয়েছেন। সমাজমাধ্যমে একাধিক পোস্ট করে তিনি নিজেই এই সফরের কথা প্রকাশ করেছেন এবং দীর্ঘদিন পর কলকাতায় আসতে পারছেন বলে উচ্ছ্বাসও ব্যক্ত করেছেন। জানা গিয়েছে, তিনটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আগামীকাল কলকাতার রবীন্দ্রসদনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেবেন। তাঁর এই সফর ঘিরে সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

তসলিমা নাসরিন বাংলা সাহিত্যের এক বহুল আলোচিত এবং বিতর্কিত নাম। ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত তাঁর উপন্যাস ‘লজ্জা’ বাংলাদেশে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করে। এরপর ধর্মীয় মৌলবাদের বিরোধিতা এবং নারীর অধিকার নিয়ে তাঁর লেখালেখির কারণে তিনি প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েন। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হন এবং দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপ ও ভারতের বিভিন্ন শহরে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন।

কলকাতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০০৪ সালে তিনি কলকাতায় বসবাস শুরু করেন। কিন্তু ২০০৭ সালে তাঁর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ ও অশান্তির ঘটনা ঘটে। আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় তাঁকে প্রথমে কলকাতা থেকে সরিয়ে রাজস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে দিল্লিতে নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর কলকাতায় থাকা সম্ভব হয়নি। তিনি একাধিকবার প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, বাংলা ভাষা ও কলকাতার সাংস্কৃতিক পরিবেশের প্রতি তাঁর গভীর টান রয়েছে এবং সুযোগ পেলে তিনি আবার কলকাতায় ফিরতে চান।

প্রায় দুই দশক পর তাঁর এই প্রত্যাবর্তন তাই শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাংলা সাহিত্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নির্বাসিত লেখকের জীবন নিয়ে নতুন করে আলোচনারও সুযোগ তৈরি করেছে। সমর্থকদের একাংশ মনে করছেন, একজন লেখকের সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত। অন্যদিকে, অতীতের বিতর্কের কথা উল্লেখ করে সমালোচকদের একাংশ এখনও তাঁর লেখালেখি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছেন।

দীর্ঘ প্রবাসজীবনের পর কলকাতায় তাঁর এই সংক্ষিপ্ত সফর শেষ পর্যন্ত কী বার্তা বহন করে এবং সাহিত্যপ্রেমীদের মধ্যে কতটা সাড়া ফেলে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।

Loading