September 3, 2026

উত্তরবঙ্গের যোগাযোগে বড় বদল! ২,০৭৭ কোটি টাকায় চার লেন হচ্ছে বাগডোগরা–গলগালিয়া সড়ক

চিকেনস নেক’-এ নজর, উত্তরবঙ্গের যোগাযোগে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের পথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। শিলিগুড়ি করিডোরের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ আরও মজবুত করতে বাগডোগরা থেকে পানিটঙ্কি, খড়িবাড়ি হয়ে গলগালিয়া পর্যন্ত প্রায় ৩১ কিলোমিটার জাতীয় সড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ২,০৭৭ কোটি ১৮ লক্ষ টাকা। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্তকে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত চার লেনের রাস্তা তৈরি হলে বাগডোগরা, নকশালবাড়ি, পানিটঙ্কি, খড়িবাড়ি এবং গলগালিয়া এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত ও মসৃণ হবে। একইসঙ্গে শিলিগুড়ি করিডোরে যানজট কমানোর ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। প্রকল্পের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হল, রাস্তা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নির্মাণ করা হবে একাধিক বড় সেতু, একটি রোড ওভারব্রিজ এবং পাঁচটি এলিফ্যান্ট আন্ডারপাস। উত্তরবঙ্গের জঙ্গল ও হাতির চলাচলের এলাকাগুলির কথা মাথায় রেখে এই আন্ডারপাসগুলি তৈরি করা হবে, যাতে বন্যপ্রাণী ও যানবাহনের সংঘর্ষের আশঙ্কা কমে। এছাড়াও মহাসড়কের দু’পাশে সার্ভিস রোড তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে জাতীয় সড়কের মূল যান চলাচলের পাশাপাশি স্থানীয় যানবাহনের জন্যও পৃথক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এই সড়ক প্রকল্পের গুরুত্ব শুধু উত্তরবঙ্গের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পানিটঙ্কি ও গলগালিয়া সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়ায় নেপাল, ভুটান এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক পরিবহণের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। কৃষিপণ্য, চা, উদ্যানপালন ও অন্যান্য পণ্য দ্রুত বাজারে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে পরিবহণের সময় ও খরচ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডোরের কৌশলগত গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে এই চার লেনের প্রকল্প ভবিষ্যতে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। সব মিলিয়ে বাগডোগরা–পানিটঙ্কি–খড়িবাড়ি–গলগালিয়া সড়কপথের এই উন্নয়ন উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আনার পাশাপাশি সীমান্ত বাণিজ্য, পর্যটন এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।

Loading