September 4, 2026

পর্যটনে হৃত গৌরব ফেরাতে নতুন উদ্যোগ রাজ্যের, চালু হল পর্যটন দপ্তরের নতুন লোগো ও রিংটোন

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ; রাজ্যের পর্যটন ক্ষেত্রে হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে একাধিক নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। কলকাতায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের পর্যটন দপ্তরের নতুন লোগো ও রিংটোনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ এবং শিল্প মন্ত্রী তাপস রায়।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের পর্যটন পরিকাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এর ফলে রাজ্যের উপর দিয়ে পর্যটকরা যাতায়াত করলেও পাশের ও অন্যান্য রাজ্যগুলি পর্যটন ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। সেই হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করতেই পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান সরকার।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের বাজেটে রাজ্যের পর্যটনের উন্নয়নের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটন দপ্তরে কর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা টুরিস্ট লজ ও গেস্ট হাউসগুলির সংস্কারের উপরও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি পর্যটন আবাসন বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় রাজ্যের পর্যটন ক্ষেত্রকে আরও উন্নত ও আকর্ষণীয় করে তোলার লক্ষ্যে গত চার মাসে একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পর্যটনকে শুধুমাত্র বিনোদনের ক্ষেত্র হিসেবে নয়, কর্মসংস্থান ও রাজ্যের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে।

পর্যটন পরিকাঠামোর পাশাপাশি জলপথে পর্যটন ব্যবস্থাকেও আরও আকর্ষণীয় করার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। মুখ্যমন্ত্রী জানান, দেশের ১৭তম শহর হিসেবে কলকাতাকে ওয়াটার মেট্রোর সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও কলকাতার বাবুঘাট থেকে সুন্দরবনের বিভিন্ন দ্বীপে সারাদিনের ভ্রমণ এবং রাত্রিবাসের সুযোগ তৈরি করতে প্রায় ১১টি বোট তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বন্যপ্রাণ ও জঙ্গল পর্যটনের ক্ষেত্রেও একাধিক পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ২ অক্টোবর বক্সায় বাঘ ছাড়া হবে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও পরিষেবা উন্নয়নের উপর জোর দেওয়ার কথা জানান তিনি।

নতুন লোগো ও রিংটোনের সূচনার মধ্য দিয়ে রাজ্যের পর্যটন দপ্তরকে নতুন পরিচয়ে তুলে ধরার পাশাপাশি পর্যটন শিল্পকে আরও গতিশীল করার বার্তাই দিল রাজ্য সরকার। এখন দেখার, ঘোষিত এই পরিকল্পনাগুলি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং বাংলার পর্যটন মানচিত্রে হারানো গৌরব কতটা ফিরে আসে।

Loading