October 9, 2026

The Chief Election Commissioner of India, Sh. Gyanesh Kumar addressing at the release of Index Cards for bye-elections in under 72 hours on June 25, 2025.

SIR বিতর্কে জ্ঞানেশ কুমারের পাশে ৪২ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, ‘ভোট চুরি’র অভিযোগে প্রমাণের দাবি

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে বিরোধীদের আন্দোলন ঘিরে যখন দিল্লি, কলকাতা-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে, তখন নির্বাচন কমিশনের সমর্থনে সরব হলেন ৪২ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও ঊর্ধ্বতন আধিকারিক। দেশবাসীর উদ্দেশে লেখা এক খোলা চিঠিতে তাঁরা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে প্রমাণহীন অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

জানা গিয়েছে, ওই চিঠিতে বিভিন্ন রাজ্যের হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের একাধিক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিও স্বাক্ষর করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, যথেষ্ট প্রমাণ ছাড়া নির্বাচন কমিশন বা নির্বাচনী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র মতো গুরুতর অভিযোগ করা উচিত নয়। রাজনৈতিক দলগুলিকে অভিযোগ জানাতে হলে নির্দিষ্ট প্রমাণ-সহ সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক পথ অনুসরণের পরামর্শও দিয়েছেন তাঁরা।

খোলা চিঠিতে ১৯৫০ সালের এই আইন অনুযায়ী SIR বা Special Intensive Revision নিয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা। তাঁদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়া আইনসম্মত। এর মাধ্যমে মৃত, ভুয়ো কিংবা অন্যত্র চলে যাওয়া ভোটারদের নাম চিহ্নিত করে বাদ দেওয়া এবং যোগ্য নাগরিকদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। ফলে SIR-কে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে তুলে ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা উচিত নয় বলেও মত তাঁদের।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে ভোটার তালিকা সংশোধন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু তার জেরে নির্বাচন কমিশন বা অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করা উচিত নয়।

রাজনৈতিক দলগুলির উদ্দেশে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের বার্তা, নির্বাচনী লড়াইয়ে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা বজায় রাখতে হবে। নির্বাচন কমিশন কিংবা আদালতের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে তা প্রকাশ্যে কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে না তুলে যথাযথ প্রমাণ-সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে পেশ করার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের প্রতিও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। যাচাই না করে কোনও গুজব, রাজনৈতিক দাবি বা বক্তব্যকে সত্য হিসেবে গ্রহণ কিংবা প্রচার না করার আবেদন জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলির বক্তব্য অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে তথ্য যাচাই করার পাশাপাশি গণতন্ত্রে নিজেদের ভোটাধিকার ও ভোটের শক্তির উপর আস্থা রাখার কথাও বলা হয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও আধিকারিকদের মতে, নির্বাচন কমিশন এবং সুপ্রিম কোর্টের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের বিশ্বাস দুর্বল হয়ে পড়লে তার প্রভাব দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর পড়তে পারে। তাই রাজনৈতিক বিরোধ বা প্রতিবাদ থাকলেও তা যেন সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক পথেই হয়, সেই আবেদন জানিয়ে জ্ঞানেশ কুমার ও নির্বাচন কমিশনের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন তাঁরা।

The Chief Election Commissioner of India, Sh. Gyanesh Kumar addressing at the release of Index Cards for bye-elections in under 72 hours on June 25, 2025.

Loading