সোমালিয়া সংবাদ, আরামবাগ: আম আদমি পার্টি অর্থাৎ আপ দলের দলীয় প্রতীক ‘ঝাঁটা’। এর অর্থ সমাজ থেকে সমস্ত আবর্জনা, নোংরা, ময়লা পরিষ্কার করাই তাদের দলের মূল উদ্দেশ্য। আর সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে দিল্লির পর পাঞ্জাব দখল হয়েছে। কিন্তু উদ্দেশ্য কতটা সফল হয়েছে তা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা রকম প্রশ্ন চিহ্ন রয়েছে। তবে ধীরে ধীরে এই আম আদমি পার্টি সাধারণ মানুষের মনে অনেকটাই স্থান করে নিয়েছে কোন সন্দেহ নেই। তাই দিল্লির পর তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বড় রাজ্য পাঞ্জাবও তাদের হাতে। রাজনৈতিক মহল সূত্রে খবর, এবার আম আদমি পার্টি বাংলা দখল করতে নাকি ঝাঁপাতে চলেছে। আর তা যে একেবারেই অমূলক নয় তার প্রমাণ মিলছে বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন এলাকায় আম আদমি পার্টির পোস্টার পড়ছে। জেলাভিত্তিক সদস্য সংগ্রহ অভিযান চলছে। আরামবাগও সেই তালিকা থেকে বাদ যায়নি। আরামবাগের তিরোল অঞ্চল সহ বিভিন্ন জায়গায় দেয়ালে দেয়ালে এখন আম আদমি পার্টির পোস্টার শোভা পাচ্ছে। যদিও তা নিয়ে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে তেমন কোন প্রতিক্রিয়া নেই। তৃণমূলের আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা যুব সভাপতি পলাশ রায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকার চলছে। দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি দলনেতা অভিষেক ব্যানার্জি আমাদেরকে এই গণতন্ত্রই শিখিয়েছেন। তাই এই রাজ্যে বিভিন্ন দল তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি করবে এটা তো স্বাভাবিক ঘটনা। এটাই তো প্রমাণ করে রাজ্যে গণতন্ত্র রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে প্রত্যেকে নিশ্চিন্তে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারছে। অন্যদিকে বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুশান্ত বেরা বলেন, আমিও লক্ষ্য করেছি বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার পড়ছে। এ নিয়ে ভেঙে পড়ার কিছু নেই। আপ আসবে চাপ আসবে অনেক কিছু আসবে। ওরা এখানে কিছু করতে পারবে না। ওরা ওদের মত করেই চলবে, আমরা আমাদের মতো করে সংগঠনটির করছি। কিন্তু রাজনীতি সচেতন মানুষদের একাংশের বক্তব্য, এই সমস্ত আঞ্চলিক দলগুলি সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভর্তুকি দিয়ে ক্ষমতা দখল করতে মরিয়া। বর্তমানে তৃণমূল যেমন বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দিয়ে মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে, তেমনি আপ সরকার দিল্লি ও পাঞ্জাবে বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাড় দিয়ে মন জয় করেছে। কিন্তু এতে সাধারণ মানুষ সাময়িকভাবে উপকৃত হয়েছে ভাবলেও বাস্তবে অর্থনৈতিক অবস্থার একেবারে দফারফা হয়ে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে ওই সমস্ত রাজ্যগুলি ঋণের গভীরে তলিয়ে যাচ্ছে। যার দায়ভার যেমন বর্তমান প্রজন্মকে বহন করতে হচ্ছে তেমনি তার শিকড় থেকে যাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। আর এ ধরনের রাজ্যের সংখ্যা বাড়তে থাকলে আগামী দিনে আমাদের দেশের অবস্থাও শ্রীলঙ্কার মতো যে হবে না এমন গ্যারান্টি দেওয়া যাচ্ছে না।
![]()

More Stories
রোজ ভ্যালি কাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের স্বস্তি, ফের শুরু টাকা ফেরত প্রক্রিয়া
বিধানসভা ভোটে নজিরবিহীন নিরাপত্তা, ২,৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের
এক নজরে দেখে নিন তৃণমূলের ইস্তাহার ২০২৬