February 4, 2026

ট্রলার ভর্তি ইলিশ ফেলে পালালো মৎসজীবিরা, কিন্তু কেন?

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: এখনও পর্যন্ত ইলিশ মাছ ধরার ক্ষেত্রে তেমন লাভের মুখ দেখেননি মৎস্যজীবীরা। ফ্রেজারগঞ্জ, নামখানা থেকে কাকদ্বীপ সর্বত্র প্রায় এক ছবি। যে সব ট্রলারগুলো ফিরে আসছে সেখানেও বড় ইলিশের আকাল দেখা যাচ্ছে। জালে উঠছে প্রচুর ছোট সাইজের ইলিশ। যাকে সবাই খোকা ইলিশ বলে থাকেন। কিন্তু বাঙালির বড় ইলিশের বাসনা এখনই মিটছে না। আর তার একটি অন্যতম কারণ যে লাগামছাড়া হারে খোকা ইলিশ ধরা, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল ফ্রেজারগঞ্জ। গভীর রাতে নামখানা ব্লকের ফ্রেজারগঞ্জের বালিয়াড়া ঘাটে একটি ট্রলার থেকে এক হাজার কেজি ‘খোকা ইলিশ’ উদ্ধার করল পুলিশ।
যদিও ট্রলারে থাকা প্রত্যেকেই পালিয়ে গিয়েছে বলে জানা যায়। কাউকেই এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা যায়নি। চলতি বছরে ইলিশের ভরা মরসুম বলে মনে করা হয়েছিল। কারণ, শেষ দুই বছর বর্ষাকালে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেশি ছিল। কিন্তু এখন বর্ষাকালে হালকা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। নিম্নচাপের আভাসও তেমন ছিল না।ফলে এই বছর ইলিশ প্রচুর জালে উঠবে বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও লাভের মুখে দেখতে পাননি মৎস্যজীবীরা। জালে হাতে গোটা মাত্র বড় ইলিশ উঠেছে। বেশিরভাগই উঠেছে খোকা ইলিশ। সেই ইলিশই এখন বাজারে চড়া দাম বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু এতে আছে নিষেধাজ্ঞা। যদিও এই নিষেধাজ্ঞা উড়িয়েই চলছে খোকা ইলিশ ধরা, ও বাজারে বিক্রি। সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে, মা মহেশ্বরী নামের ওই ট্রলারে বিপুল পরিমাণ খোকা ইলিশ রয়েছে বলে খবর পায় পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তারপরই সেখানে হানা দেয় পুলিশের একটি বাহিনী।ট্রলারের ভিতর থেকে প্রচুর খোকা ইলিশ পাওয়া যায় বলে জানা গিয়েছে। সেগুলি বের করে একটি মাছের আড়তে রাখা হয়। এছাড়াও আরও তদন্ত করে পুলিশ জানতে পারে, এই ট্রলারটির গঙ্গাসাগরের রেজিস্ট্রেশন রয়েছে। সেটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আর এই খবর পাওয়ার পর থেকেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ইলিশ ব্যবসায়ীরা। ট্রলার মালিক ও মৎস্যজীবী সংগঠনগুলি এই কাজে যুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছে। এদিকে, এই মরশুমে এই প্রথম খোকা ইলিশ ধরতে হানা দিল পুলিশ, এমনটাই জানা গিয়েছে।

Loading