মুখ্য সচিবের নির্দেশ: পুলিশ মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ব্যাগ, পকেট তল্লাশি করতে পারবে না

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: একটা সময় টোকাটুকি ও নকল করার ব্যাপারে আগে হিন্দিবলয়ের কয়েকটি এলাকা কুখ্যাত ছিল। ঠিক ইদানীং বাংলাতেও কয়েকটি স্পর্শকাতর এলাকা তৈরি হয়েছে। তাছাড়া নতুন মাথাব্যাথার কারণ হয়ে উঠেছে পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস।
মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের তাই মোবাইল ফোন বা কোনও ইলেকট্রনিক গ্যাজেট নিয়ে পরীক্ষার হলে ঢুকতে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থীদের জন্যও একই নিয়ম চালু হয়েছে। গত বছর থেকে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, কী কী নিয়ে পরীক্ষার হলে ঢোকা যাবে না। তাছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে শিক্ষা দফতর এবং পুলিশ, বিদ্যুত্‍ ও পরিবহণ দফতরের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্য সচিব ভগবতী প্রসাদ গোপালিকা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও তাঁদের দিয়ে পরীক্ষার্থীদের ব্যাগ, পকেট ইত্যাদি তল্লাশি করা যাবে না। নবান্ন সূত্রে বলা হচ্ছে, মুখ্য সচিবের মতে প্রশ্নপত্র ফাঁস বা সে ধরণের কিছু যাতে না ঘটে তা আটকানোর দায়িত্ব পুলিশের। কিন্তু পরীক্ষার্থীদের ব্যাগ বা পকেট পুলিশ তল্লাশি করলে পরীক্ষা শুরুর আগে তাদের মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এরা কেউ অপরাধী নয় যে পুলিশকে দিয়ে তল্লাশি করাতে হবে। মোবাইল বা কোনও ইলেকট্রনিক গেজেট নিয়ে কোনও পরীক্ষার্থী ঢুকছে কিনা তা দেখতে হলে স্কুলের কোনও শিক্ষক যেন তল্লাশি করেন। এবারও পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা বাবা-মা কিংবা কোনও অভিভাবককে নিয়ে ঢুকতে পারবেন না। স্কুলের গেটের একশ মিটারের মধ্যে বাইরের কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। পরীক্ষা কেন্দ্রে বিশেষ করে মূল গেটের মুখে সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে হবে। তা মনিটর করবেন কোনও পুলিশ কর্মী। সিভিক ভলান্টিয়ারকে দিয়ে যেন তা করানো না হয়।
মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ২ ফেব্রুয়ারি থেকে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হবে ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে। পরীক্ষার সময় ইতিমধ্যে বদল করা হয়েছে। সকাল ৯টায় রিপোর্টিং টাইম রাখা হয়েছে। পৌনে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে পরীক্ষাগ্রহণ। বৈঠকে মুখ্য সচিব পরিবহণ দফতরকে জানিয়ে দিয়েছেন, পরীক্ষার দিনগুলোতে যেন সকাল থেকে পর্যাপ্ত সংখ্যায় বাস থাকে। পরীক্ষার সময়ে জেলা ও মফস্বলে বিদ্যুতের সরবরাহে কোনও ব্যঘাত যাতে না ঘটে। তা ছাড়া বন দফতরকে বলা হয়েছে, বনাঞ্চলে যেখানে হাতি বা বন্য পশু বেরিয়ে আসার কারণে যান চলাচলে অসুবিধা হয়, সেখানে ড্রপগেট ব্যবহার করতে।

Loading