সোমালিয়া ওয়েব নিউজ : পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে প্রকৃতির এমন কিছু অনবদ্য অবদান যা সত্যিই আমাদের আশ্চর্য করে তোলে। পৃথিবীতে বিচিত্র স্থানের অভাব নেই। কোন কোন স্থান হয়তো যত সুন্দর ততই দূর্গম। বিশালাকার জলপ্রপাতে সূর্যের কিরণ স্পর্শ করলে সাত রঙের মেলবন্ধনে আপ্লুত করে মানুষের মনকে। তবে এই চিত্র খুবই সাধারন। যে কোন জলপ্রপাতের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেই আপনি দেখতে পাবেন। কিন্তু এমন কোন শান্ত নদীর নাম নিশ্চই শোনেননি যে কুল কুল ধারায় বয়ে যাওয়ার সময় সূর্যের সাত রঙকে বয়ে নিয়ে যায়। ঠিক তেমনই একটি জায়গা হলো কলম্বিয়ার ক্যানো ক্রিস্টালস। পৃথিবীতে এমন নদীও আছে যার জলে পাথর-শ্যাওলা-জলজ উদ্ভিদ ও নীল, লাল, হলুদ, সবুজ, কমলা, গোলাপী রঙের অসাধারন এক সমারোহ রয়েছে। পৃথিবীর এই স্থান গুলো চাক্ষুষ করলে মনে হয় স্বয়ং স্বপ্নরাজ্য থেকে বেরিয়ে এসেছে জায়গাগুলি ,এমন ই অবিশ্বাস্য এদের সৌন্দর্য। কলম্বিয়ার কানো ক্রিস্টেলস নামক এই নদীতে রামধনুর সাতটি রঙের খেলা দেখতে পাওয়া যায়। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য নদী-নালা আর সৌন্দর্যের দিক থেকেও এগুলি অতুলনীয় তবে বাকি নদীর থেকে এই রামধনু নদী কিন্তু একদমই আলাদা।এখানে যেন সারা বছর ধরে এক রঙের মেলা বসে। প্রায় পাঁচটি ছটি মনমুগ্ধকর রং দেখতে পাওয়া যায় এই নদীতে। উপর থেকে এই নদীর দিকে তাকালে মনে হয় কেউ যেন রামধনুর রঙে সাজিয়ে তুলেছে নদীটিকে।এই নদীর সৌন্দর্য মোহিত হয়ে অনেকেই এটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর নদী বলে আখ্যা দিয়ে থাকেন। এই নদীর সৌন্দর্য নিয়ে মনে কারো মনে কোন দ্বিমত না থাকলেও রামধনুর নদীর সৃষ্টি নিয়ে মানুষের মনে নানা প্রশ্ন।একই সাথে একটা নদীতে এত গুলির রং কি করে সৃষ্টি হতে পারে তা মানুষকে বরাবর কৌতুহলী করে তুলেছে। তবে বর্তমানে বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে এই প্রশ্নটির উত্তর খুঁজে পাওয়া গেছে। কানো ক্রিসটেলস নামক এই নদীর উত্পত্তি সেরিনিয়া ডেলা মাকারিনা নামক পাহাড় থেকে। বছরের বেশিরভাগ সময় এই নদীর রং স্বাভাবিক পাহাড়ি নদীর মত থাকলেও বর্ষাকালে এই নদীর রং পাল্টে যায়। এই নদীর লাল রঙ আসলে এই নদীর তলদেশে জন্মানো লাল রংয়ের গুল্মলতা থেকে। বর্ষাকালে এই নদীর তলদেশে পাথরের গায়ে জন্মায় এই বিশেষ ধরনের গুল্ম। আর নদীর যে অংশে রোদ বেশি থাকে সেই অংশে এই লাল রঙের লতা বেশি জন্মায়। আর স্রোতের সাথে এগুলি দুলতে থাকে ফলে ওই অংশের নদীর রং লাল দেখায়। নদীর যে অংশে স্রোত কম থাকে সেই অংশে অন্যান্য নদীর মতই এই ক্রিস্টেলস নদীর পাদদেশে ও জন্মায় সেবাসহ নানা সবুজ গুল্ম। ফলে যে স্থানে স্রোত কম থাকে, সেখানে সবুজ রঙ দেখা যায়। নদীর যে অংশে কোন গুল্মলতা জন্মায় না সেই অংশটা সাধারণত কোন রকম রং বিহীন থাকে। আর এই রং বিহীন জায়গাতেই আকাশের ছায়া পড়ার ফলে নদীর রং দেখায় নীলচে। আবার নদীর কিছু কিছু অংশে বালির পরিমাণ অন্যান্য অংশের থেকে অনেকটাই বেশি থাকে আর এই বালির রং হয় অপেক্ষাকৃত হলুদ। ফলে স্বচ্ছ জলের উপর থেকে নিচের দিকে তাকালে নদীর রং মনে হয় হলুদ। নদীর কোন কোন স্থানে কালচে ও ধূসর রং ও চোখে পড়ে। এর কারণ মূলত নদীর পাদদেশে থাকা প্রাচীন পাথরগুলি। কয়েক মিলিয়ন বছর পুরনো এই পাথরগুলি ক্রমশ কোন কোন জায়গা ধূসর ও কোন কোন জায়গায় কালচে রং ধারণ করেছে যার ফলে স্বচ্ছ জলের উপর থেকে ওই পাথরগুলো দেখে জলের রং কালচে ধূসর বলে ভ্রম হয়।তবে এখানেই কিন্তু শেষ নয় প্রতি ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এই নদীকে সেজে উঠতে দেখা যায় বিভিন্ন রঙে শুধু যে নদীর রঙে এই জায়গাকে সুন্দর করে তুলেছে তাই নয়, এর আশেপাশে রয়েছে অসংখ্য ঝর্ণা বিশাল জলাশয় ও আন্ডারওয়াটার গুহ। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় কি জানেন? এই নদীতে নেই কোন প্রকার জলজ প্রাণী এমনকি মাছও। ফলে পর্যটকরা নিশ্চিন্তে সাঁতার কাটতে পারেন এই নদীতে।খুবই দুর্গম স্থানে অবস্থিত হবার ফলে আগে এই নদীতে পৌঁছানো খুবই ঝামেলার ব্যাপার ছিল তবে বর্তমানে খুব সহজেই এই জায়গায় ভ্রমণ করতে যাওয়া যায়।
![]()

More Stories
ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত: শুল্ক হ্রাস, বিরল খনিজে সহযোগিতা ও কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার
নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে নারী ও সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ বাড়ছে, উদ্বেগ প্রকাশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের
নিরাপত্তা জোরদারে ১ কোটিরও বেশি ভিসা বাতিল করল আমেরিকা