সৌজন‍্যে: গুগল

বড়ো খবর

—-অপা 

মহাজনি নৌকায় দাঁড় এবং পালের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়েছে। দাঁড় বলছে আমরা বড়। আর পাল বলছে আমরা। এই নিয়ে দু’পক্ষই বৃদ্ধ মাঝির কাছে নালিশ করছে। বৃদ্ধ মাঝি এর মধ্যে পড়েছেন মহাফাঁপড়ে। তিনি জানেন জানেন দাঁড় এবং পাল দু’জনকেই দরকার। এখন তিনি কাকে সন্তুষ্ট করেন? সে কারণে দাঁড়কে বলছেন তোমরাই আমার সব। কিন্তু এসব কথা তিনি বলছেন যাতে পাল না শুনতে পায়। আবার পালকে বলছেন তোমরাই আমার সব। তিনি এসব বলছেন বটে তবে দাঁড় যাতে না শুনতে পায়।অনেকেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প ‘বড়ো খবর’ পড়েছেন।এখন এই অবস্থা দুটি রাজনৈতিক দলের। রাজনৈতিক দল দুটি হল তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টি। অধিকাংশ জায়গাতেই দুটি  দলেরই প্রার্থী পছন্দ হয়নি। আবার দুই দলেরই যাঁরা প্রথম থেকেই দলটা করছেন তাঁদের অনেকেই আজ দলে ব্রাত্য। প্রথমেই ধরা যাক তৃণমূল কংগ্রেসের কথা। যাঁরা প্রথম থেকে দলটা করছিলেন অনেকেই এখন দলে ব্রাত্য। ফলে অনেকেই দল ত্যাগ করেছেন। আবার যাঁরা রয়ে গেছেন তাঁরা একেবারেই হয়তো বসে গেছেন। দলীয় কর্মসূচিতে তাঁদের সেইভাবে আর দেখা যাচ্ছে না।এমতাবস্থায় যাঁরা টিকিট পেয়েছেন অর্থাৎ দলীয় প্রার্থী হয়েছেন তাঁরা জানেন জিততে হলে নতুন এবং পুরনো সমস্ত কর্মীদেরকেই দরকার হবে। কিন্তু সকলকে একসূত্রে গাঁথা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই এই প্রার্থীরা যাঁরা পুরানো এবং দলে ব্রাত্য হয়ে রয়েছেন তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠকে বসেছেন। তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন যদি আমি ক্ষমতায় আসতে পারি তাহলে আপনারা আপনাদের পুরনো সম্মান ফিরে পাবেন বা ক্ষমতা ফিরে পাবেন। আবার যাঁরা এখন সক্রিয়ভাবে করছেন দলটাকে তাঁদেরকেও বোঝানো হচ্ছে শুধুমাত্র জেতার জন্যই  ওদেরকে আমি কাছে টেনেছি। ক্ষমতায় এলে আপনারা যেমন ছিলেন তেমনি আপনারা ক্ষমতায় থাকবেন । ওরা যেমন  ব্রাত্য ছিল তেমনভাবেই ওরা থেকে যাবে। আবার পুরনোদের কে বলছেন, আপনারাই দলের সম্পদ।বিজেপিরও একই অবস্থা। তাঁদের দলের পুরানো কর্মীরা অনেক আগে থেকেই আতঙ্কিত। নির্বাচনের পর তাঁদের অবস্থা কী হবে এই ভেবে। তাঁরা তৃণমূল দলটাকে খুব কাছ থেকে দেখছেন। তাছাড়াও নিজেদের দল বিজেপিকেও কাছ থেকে দেখছেন।আদি এবং নব্যর দ্বন্দ্ব।বিশেষভাবে বর্তমানে দলবদলুরাই বিজেপিতে প্রাধান্য পাচ্ছে। একেবারে উপর থেকে নীচুতলা পর্যন্ত।মুকুল রায় থেকে অর্জুন সিং। নামের তালিকা এতটাই দীর্ঘ লিখে শেষ করা যাবে না। আর এই নিয়ে রাজ্যস্তর থেকে বুথস্তর পর্যন্ত ক্ষোভ ছড়িয়েছে। যা সবারই জানা।বিজেপির এই ক্ষোভের আগুন এতটাই তীব্র যা খুব ভালো করেই টের পাচ্ছেন যাঁরা প্রার্থী হয়েছেন।বিজেপির অন্দরে কানে কানে এই একটা বার্তা খুবই শোনা যাচ্ছে। যাঁরা আদি তাঁদেরকে বোঝানো হচ্ছে ভোট মিটলেই ওদেরকে (নব্য) দল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে।আবার নব্যদের বলা হচ্ছে শুধুমাত্র ভোটে জেতার জন্য ওদেরকে (আদি) রাখা হয়েছে। ভোট মিটলেই নতুন কমিটি গঠন করা হবে। ওদেরকে সেই কমিটিতে রাখা হবে না।তৃণমূল বা বিজেপি এই আদি নব্যর দ্বন্দ্ব মিটিয়ে কতটা ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে পারে সেটাই দেখার।

Loading