November 30, 2025

শিশুটির হাতে মোবাইল , মোবাইলের স্ক্রিনে রীলস। অন্তহীন অর্থহীন শালীন অশালীন ভেদাভেদজ্ঞানহীন রীলস।

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ; শিশুটি দেখে যাচ্ছে টানা, নড়া নেই চড়া নেই, মাথা খাটানো নেই, আগে শিশুরা কার্টুন শো দেখতো মিনিট কুড়ির…অতক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখার ব্যাপারও নেই। দুয়েক মিনিটের রীল…চলছে পর পর পরের পর। শিশুটি কাউকে বিরক্ত করে না …চেঁচামেচি করে না…ঘরদোর নোংরা করে না। ভালো ব্যবস্থা…তাই না? বেশ সুবিধার ।

আর তার মনের ভিতর…তার অপরিণত নিষ্পাপ …কাদার তালের মত যে কোনো ছাঁচে পড়ে তার রূপ ধারণ করার মতো নরম মনটার ভিতর…কি ঢুকছে পর পর পরের পর? একটু কোন সুস্থ চিন্তা… একটু কোন শোভন বিনোদন? কি মনে হয়?

দয়া করে আপনার পরিবারের খুদে সদস্যটির হাত থেকে মোবাইলটি নিয়ে একটি বই ধরান। হ্যাঁ…মানছি… এখনই পড়তে পারেনা হয়তো …পড়ে দিতে হবে। আপনি ব্যস্ত…সত্যিই ব্যস্ত…সেটাও জানি। আচ্ছা…নাহয় ছবিই দেখুক খানিক…যখন সময় হবে পড়ে দেবেন ‘খন। ছিঁড়ে ফেলবে…নষ্ট করবে? এদিকে যে মনের সুকুমার কোমল বৃত্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে…তার কি হবে !

আচ্ছা বেশ…বই না হয় নাই দিলেন। সাদা কাগজ আর রং পেন্সিল দিন…হিজিবিজি কাটুক। ঘর নোংরা হবে? বিশ্বাস করুন…ওর মনে যে নোংরা ঢুকছে তার থেকে বেশী হবে না। আর নাহলে ব্লকস দিন…কাঠের বা প্লাস্টিকের। মডেলিং ক্লে। তাও না পেলে সাবেক খেলনাবাটি, গাড়ি , পুতুল। কিছু তো করুক হাত দিয়ে…মাথা দিয়ে…মন দিয়ে। অন্যের বানানো কিছু উদ্ভট কিম্ভুত কার্যকলাপের রেকর্ডিং দেখে মগজধোলাই না হয়ে নিজের মনে খামখেয়ালিপনাই করুক না হয়।

আপনার শিশুকে আপনি কি ভাবে বড়ো করবেন সে বিষয়ে আমি সামাজিক মাধ্যমে উটকো লোক গায়ে পড়ে জ্ঞান দিচ্ছি…,আপনার বিরক্তির উদ্রেক হতে পারে…মানছি। আসলে..,.চার বছরের কন্যা আয়নার সামনে নানা অঙ্গভঙ্গি সহকারে বলছে..”.মা আমাকে চেক্সি লাগছে”…আর মা বাবা গদ গদ হয়ে বলছেন… “দেখেছো কি সব বলে .. কোথায় যে শেখে কে জানে” …সদ্য দেখা এই দৃশ্য আমাকে খুব ভয় পাইয়ে দিয়েছে…জানেন।

এখনও সাবধান না হলে খুব বড়ো ক্ষতি হয় যাবে ওদের,,,, আমাদের,,,,

Loading