সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ আজ, ৪ঠা জুলাই, পালিত হলো ভারতবর্ষের গর্ব, বিশ্ববরেণ্য বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের তিরোধান দিবস। ১৯০২ সালের এই দিনেই বেলুড় মঠে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে তিনি দেহত্যাগ করেন। তাঁর এই তিরোধান দিবস উপলক্ষে দেশের নানা প্রান্তে, বিশেষত রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে আয়োজিত হয়েছে বিশেষ পূজা, প্রার্থনা, ধর্মসভা এবং ভাবগম্ভীর আলোচনাসভা।
কলকাতার বেলুড় মঠে ভোর থেকেই ভক্তদের ঢল নামে। প্রাতঃকালীন মঙ্গলআরতির পর শ্রদ্ধা জানানো হয় বিবেকানন্দের সমাধি স্থলে। এরপর দিনব্যাপী চলে বেদপাঠ, গীত, ও তাঁর জীবন ও দর্শনভিত্তিক আলোচনা। সন্ধ্যায় আয়োজিত হয় বিশেষ ‘ভক্তিসঙ্গীত’ ও ‘ধর্মসভা’, যেখানে দেশ-বিদেশ থেকে আগত সন্ন্যাসী ও চিন্তাবিদরা অংশ নেন।
রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “বিবেকানন্দ কেবল একজন ধর্মগুরু নন, তিনি ছিলেন ভারতের আত্মচেতনার জাগরণ পুরুষ। তাঁর আদর্শ আজও যুগে যুগে তরুণ সমাজকে উদ্বুদ্ধ করে চলেছে।”
বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত হয়েছে বিশেষ আলোচনা সভা ও প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা। ছাত্র-ছাত্রীরা স্বামীজির বাণী ও দর্শনের উপর আলোকপাত করে জানায়— “যদি নিজেকে দুর্বল মনে করো, তাহলে তুমি ঈশ্বরকে অপমান করো — এই একটি বাণী আমাদের জীবন বদলে দেওয়ার মতো শক্তিশালী।”
যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াসহ বহু দেশেই রামকৃষ্ণ মঠের শাখাগুলিতে আয়োজিত হয় বিশেষ অনুষ্ঠান। নিউ ইয়র্কের ‘Vedanta Society’-তে স্বামীজির রচনার পাঠ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
স্বামী বিবেকানন্দের মৃত্যু হলেও, তাঁর আদর্শ, শক্তি ও চিন্তাধারা আজও অম্লান। বর্তমান যুগে যেখানে মানবতা ও আত্মচেতনার সংকট দেখা দিচ্ছে, সেখানে তাঁর বাণী যেন পথের দিশারি।

![]()

More Stories
আন্তর্জাতিক অরণ্য দিবসে অরণ্য রক্ষায় শপথ নেওয়ার আহ্বান
দেশে সারের ঘাটতি মেটাতে আমদানি বাড়াল কেন্দ্র, ইউরিয়া আমদানি ৮৯ লক্ষ টন
বিসমিল্লাহ্ খাঁ: সুরের ভিতর মানবধর্মের অনন্য সেতুবন্ধন