February 4, 2026

শহীদ মঙ্গল পাণ্ডের জন্মদিবসে শ্রদ্ধা নিবেদন

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ আজ, ১৯ জুলাই, ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম অগ্রদূত শহীদ মঙ্গল পাণ্ডে-র জন্মদিনে সারা দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে শ্রদ্ধার্ঘ্য দিবস। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের সূচনা যাঁর হাতে, সেই অগ্নিযোদ্ধার স্মৃতিতে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে বিভিন্ন স্থানে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে রাজ্যব্যাপী পালিত হয় শহীদ দিবস।

মঙ্গল পান্ডে একটি ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, নাগওয়া , উচ্চ বালিয়া জেলার একটি গ্রাম, সেডেড এবং বিজিত প্রদেশ (বর্তমানে উত্তর প্রদেশে )। পান্ডে 1849 সালে বেঙ্গল আর্মিতে যোগ দিয়েছিলেন। 1857 সালের মার্চ মাসে, তিনি 34 তম বেঙ্গল নেটিভ ইনফ্যান্ট্রির 5 তম কোম্পানিতে একজন প্রাইভেট সৈনিক (সিপাহী) ছিলেন।

মঙ্গল পাণ্ডে ছিলেন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বেঙ্গল নেটিভ ইনফ্যান্ট্রির একজন সিপাহী। ১৮৫৭ সালে ব্যারাকপুর সেনানিবাসে নতুন এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুসে গরুর ও শূকরের চর্বি ব্যবহারের প্রতিবাদে তিনি বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেন। সেই প্রতিবাদ থেকেই ছড়িয়ে পড়ে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ—যা ইতিহাসে পরিচিত “সিপাহী বিদ্রোহ” নামে।

আজ সকালেই ব্যারাকপুরের মঙ্গল পাণ্ডে উদ্যানে তাঁর মূর্তিতে মাল্যদান করেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ও স্থানীয় বিধায়করা। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন,

“মঙ্গল পাণ্ডে ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম আগুন; তাঁর আত্মবলিদান আজও আমাদের অনুপ্রেরণা।”

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-ও সামাজিক মাধ্যমে একটি শ্রদ্ধাঞ্জলি বার্তা প্রকাশ করে লেখেন:

“১৮৫৭-র সিপাহী বিদ্রোহের অন্যতম নেতা শহীদ মঙ্গল পাণ্ডের জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধা। তাঁর সাহস ও আত্মত্যাগ ভারতের আত্মপরিচয়ের সূচনা।”

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেসিডেন্সি কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, প্রবন্ধ পাঠ ও ঐতিহাসিক তথ্যচিত্র প্রদর্শনী। স্কুলে স্কুলে ছাত্ররা মঙ্গল পাণ্ডের জীবনীভিত্তিক নাটিকা পরিবেশন করে।

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে মঙ্গল পাণ্ডে কেবল ইতিহাস নন, বরং এক প্রতিরোধের প্রতীক। তাঁর বিদ্রোহ ছিল সাহসিকতা ও আত্মসম্মানের উচ্চারণ—যা নতুন প্রজন্মকে নিজেদের ইতিহাস জানাতে এবং স্বাধীনতা ও কর্তব্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Loading