সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ আজ, ৪ আগস্ট, স্মরণে রাখার দিন — কিংবদন্তি বেতার সম্প্রচারক, নাট্যকার এবং চিরস্মরণীয় ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ আবৃত্তি-নাট্যধর্মী সম্প্রচারের শ্রষ্টা বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র-র জন্মজয়ন্তী। বাংলা আবৃত্তি ও বেতারজগতের ইতিহাসে তাঁর নাম এক অবিস্মরণীয় উচ্চারণ। ১৯০৫ সালের ৪ আগস্ট উত্তর কলকাতায় মাতুলালয়ে বীরেন্দ্রকৃষ্ণের জন্ম হয়।তার আদি নিবাস অবিভক্ত ভারতের খুলনা জেলার উথালী গ্রামে(বর্তমানে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নের উথালী গ্রাম)। তার ডাকনাম ছিল বুশী। পিতা ছিলেন রায়বাহাদুর কালীকৃষ্ণ ভদ্র ও মা ছিলেন সরলাবালা দেবী। পরবর্তীকালে ঠাকুমা যোগমায়া দেবীর কেনা ৭, রামধন মিত্র লেনে উঠে আসেন তার পরিবারবর্গ।
১৯৩১ সালে অল ইন্ডিয়া রেডিও (তৎকালীন কলকাতা বেতার কেন্দ্রে) যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন বেতার নাট্যজগতের এক অন্যতম স্তম্ভ। কিন্তু বাঙালির চিরচেনা শ্রাবণসন্ধ্যা আর দুর্গোৎসবের আবাহনে তাঁর কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে অনন্তকালের ঐতিহ্য।
১৯৩১ সালে শুরু হওয়া ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ — যা ১৯৩৭ সাল থেকে দুর্গাপূজার মহালয়ার সকালে সম্প্রচারিত হয়ে আসছে — তাতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের আবৃত্তি ও বর্ণনাত্মক কণ্ঠস্বর বাঙালির হৃদয়ে গেঁথে গিয়েছে চিরকালের জন্য।
শুধু বেতারই নয়, নাট্যকার হিসেবেও তিনি অসাধারণ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। ‘তিতুমীর’, ‘শ্যামাপ্রসাদ’, ‘রক্তমুকুট’, ‘সত্য ও মিথ্যা’ প্রভৃতি নাটক তাঁর সৃজনশীল প্রতিভার নিদর্শন। তাঁর চিত্রনাট্যে তৈরি হয়েছে বহু বেতার নাটক যা তৎকালীন সমাজের চেতনা জাগিয়েছে।
জন্মেছিলেন ১৯০৫ সালের ৪ আগস্ট, কলকাতার সম্ভ্রান্ত পরিবারে। সংস্কৃত সাহিত্যে স্নাতক বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ছিলেন সংস্কৃত ভাষা ও শাস্ত্রের বিশারদ। এই গভীর অধ্যয়ন তাঁর কণ্ঠসাধনাকে করেছিল আরও দৃঢ়, আরও মননশীল।
আজও দুর্গাপূজার মহালয়ার ভোর মানেই সেই অলৌকিক কণ্ঠস্বরের আবাহন। নতুন প্রজন্ম হয়তো তাঁকে দেখেনি, কিন্তু তাঁর কণ্ঠে “মহিষাসুরমর্দিনী” এখনও বাঙালির ভোরের আকাশে ভেসে আসে — ভক্তি, আবেগ আর ঐতিহ্যের অনুরণন হয়ে।

![]()

More Stories
কয়লা পাচার কাণ্ডে পশ্চিমবঙ্গে ইডির তল্লাশি অভিযান, দুর্গাপুর ও বুদবুদে হানা
দিল্লিতে রাজ্য পুলিশের বাড়তি টিম, ২২ জনের দল রাতের বিমানে রওনা
লোকভবনে রাজ্যপালের কাছে SIR সংক্রান্ত দাবিপত্র বিজেপি বিধায়কদের