February 4, 2026

জোঁক বনাম লবণ — রসায়নের এক বাস্তব যুদ্ধ!

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ প্রকৃতিতে লুকিয়ে আছে অসংখ্য অদ্ভুত রাসায়নিক রহস্য। এমনই এক চমকপ্রদ উদাহরণ হল জোঁকের শরীরে লবণ পড়লে তার কুঁকড়ে যাওয়া ও মৃত্যুর ঘটনা। অনেকেই এই দৃশ্য দেখেছেন, কিন্তু এর পেছনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা জানেন কি? উত্তরটি লুকিয়ে আছে এক মৌলিক রসায়ন নীতিতে — অসমোসিস (Osmosis)


জোঁক একটি জলজ প্রাণী, যার শরীরে প্রচুর জলীয় তরল থাকে এবং লবণের ঘনত্ব তুলনামূলকভাবে কম। যখন এর গায়ে সাধারণ লবণ (NaCl) ছিটানো হয়, তখন লবণ দ্রবীভূত হয়ে Na⁺ ও Cl⁻ আয়নে বিভক্ত হয়। এই আয়নগুলো চারপাশের দ্রবণের ঘনত্ব বাড়িয়ে দেয়, ফলে তৈরি হয় এক রাসায়নিক চাপ।

এরপর ঘটে অসমোসিস প্রক্রিয়া — অর্থাৎ জল সবসময় কম ঘন দ্রবণ থেকে বেশি ঘন দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়। ফলে জোঁকের শরীরের কোষের ভেতরের জল বাইরে বেরিয়ে যায়, কোষের ভেতরের চাপ হ্রাস পায়, দেহ শুকিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত কোষগুলো সঙ্কুচিত হয়ে ফেটে যায়। এর ফলেই জোঁক মারা যায়।

এটি কোনো বিষক্রিয়া নয়, বরং এটি এক বিশুদ্ধ রসায়নিক প্রতিক্রিয়া — দেহের ভেতর ও বাইরের দ্রবণের ঘনত্বের ভারসাম্য পরিবর্তনের ফল।

রসায়নের এই নীতি শুধুমাত্র জোঁকের মৃত্যুতেই সীমাবদ্ধ নয়।
খাদ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও একই নীতি ব্যবহার করা হয় — যেমন মাছ বা আচার শুকানোর সময় লবণ ব্যবহার করে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করা হয়। লবণ ব্যাকটেরিয়ার কোষ থেকেও জল শোষণ করে তাদের ধ্বংস করে দেয়, ফলে খাবার দীর্ঘদিন ভালো থাকে।


লবণ শুধু রান্নার উপাদান নয় — এটি প্রকৃতির এক শক্তিশালী রাসায়নিক ভারসাম্য নিয়ন্ত্রক। জোঁক, ব্যাকটেরিয়া কিংবা মানবদেহ — জীবনের প্রতিটি স্তরেই লবণের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

Loading