November 30, 2025

অবশেষে শাপমুক্তি — রাজ্যে শুরু হতে চলেছে নিজস্ব সাপের অ্যান্টিভেনম উৎপাদন


সোমালিয়া ওয়েব নিউজ; অবশেষে আশার আলো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজ্য এবার নিজস্ব সাপের অ্যান্টিভেনম (AVS) উৎপাদনের পথে হাঁটতে চলেছে। এতদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গকে নির্ভর করতে হতো দক্ষিণ ভারতের পুণে বা তামিলনাড়ুর ইনস্টিটিউটগুলির ওপর। ফলে, অনেক সময় প্রয়োজনে অ্যান্টিভেনম পৌঁছাতে বিলম্ব হত, যার মাশুল দিতে হতো বহু মানুষের প্রাণ দিয়ে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদনে এবার রাজ্যের মাটিতেই শুরু হচ্ছে অ্যান্টিভেনম তৈরির উদ্যোগ। রাজ্যের সাপের প্রজাতি, তাদের বিষের গঠন এবং স্থানীয় পরিবেশের উপযোগী করে তৈরি হবে এই সিরাম। এতে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা পূর্ব ভারত এবং প্রতিবেশী বাংলাদেশও উপকৃত হবে। বর্তমানে প্রতিবছর প্রায় দশ হাজার ভায়াল অ্যান্টিভেনম ভারত থেকে বাংলাদেশে রপ্তানি করা হয়— ফলে এই নতুন উদ্যোগ শুধু চিকিৎসাক্ষেত্রেই নয়, রপ্তানি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

প্রতিবছর গড়ে কয়েক হাজার মানুষ সাপের কামড়ে আক্রান্ত হন। বিশেষত দক্ষিণবঙ্গের নদীয়া, হুগলি, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম কিংবা উত্তরবঙ্গের চা-বাগান এলাকায় মৃত্যুর সংখ্যা কম নয়। অ্যান্টিভেনমের অভাব এবং বিলম্বিত চিকিৎসাই এর অন্যতম কারণ। এবার সেই দীর্ঘদিনের অভাব পূরণ হতে চলেছে।

রাজ্যের এই পদক্ষেপ চিকিৎসা বিজ্ঞান, গবেষণা এবং জনস্বাস্থ্য— তিন ক্ষেত্রেই এক যুগান্তকারী অধ্যায় রচনা করবে। সাপের বিষ সংগ্রহ থেকে শুরু করে তার বিশ্লেষণ, অ্যান্টিভেনম প্রস্তুতি ও প্রয়োগ— গোটা প্রক্রিয়াটি রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে এলে দ্রুত চিকিৎসা এবং উন্নত মানের সিরাম উৎপাদন সম্ভব হবে।

তবে শুধু উৎপাদন নয়, তার সুষ্ঠু বিতরণ এবং প্রশিক্ষিত চিকিৎসাকর্মীর উপস্থিতিও জরুরি। কারণ, অ্যান্টিভেনম যতই কার্যকর হোক, তা প্রয়োগের সঠিক সময় ও মাত্রা না জানলে ফল মেলে না। সুতরাং, রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ— সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ।

অবশেষে বলা যায়— এই উদ্যোগ কেবল বিজ্ঞান ও চিকিৎসার নয়, মানবিকতারও এক সাফল্য। সাপের বিষে যত মৃত্যু, তা আর “দুর্ভাগ্য” নয়— এবার প্রতিরোধ সম্ভব, রাজ্যের নিজের হাতে।


Loading