সোমালিয়া ওয়েব নিউজ; কোলাঘাটের ছোট্ট ছেলে অনিক জানা — বয়স মাত্র নয়, কিন্তু সুরের জগতে ইতিমধ্যেই নিজের অবস্থান পাকা করে ফেলেছে সে। ক্লাস থ্রিতে পড়া অনিকের নাম এখন অনেকেই জানেন ফেসবুকের মাধ্যমে। “অনিকের ফেসবুক পেজ” খুললেই চোখে পড়বে তার সুমধুর কণ্ঠে নানা গানের পরিবেশনা। যেন এক শিশুমনের ভেতরে লুকিয়ে আছে এক পরিপূর্ণ শিল্পীর আত্মা।
পুজোর ছুটিতে মামার বাড়ি গোঘাটে বেড়াতে এসে যখন আমরা তার মুখোমুখি হই, তখন চোখে-মুখে লাজুক হাসি, কিন্তু কথার ফাঁকে ফুটে ওঠে গানের প্রতি তার গভীর অনুরাগ। অনিকের শিক্ষাগুরু তার মা সরস্বতী দেবী। নামের সঙ্গে যেন মিল খুঁজে পাওয়া যায় জীবনের সুরে—সুরের সাধনাতেই মা-ছেলের দিন কাটে।
অনিকের মা নিজেও একজন প্রশিক্ষিত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। সংগীত জগতের অনিকের মায়ের প্রথম সংগীত গুরু হলেন কিশোরপুর গ্রামের দুলাল দত্ত মহাশয়। অনিকের মায়ের হাত ধরেই অনিকের সংগীতযাত্রা শুরু। মায়ের রেওয়াজ দেখেই ছোট থেকেই সুরের প্রতি ভালোবাসা জন্মায় অনিকের।
অনিকের দাদুও গানের সঙ্গে জড়িত—তিনি কীর্তন শিল্পী এবং দক্ষ শ্রীখোলবাদক। দাদুর সঙ্গেই অনিক হারমোনিয়ামে গান তোলে, কখনও দাদু সঙ্গত করেন তবলা বা ঢোলে। দাদু হারমোনিয়ামে গান তুলতে সাহায্য করে ছোট্ট অনিককে। যেন বাড়ির চারদিকই সুরে ভরপুর। এই সাংস্কৃতিক পরিবেশই অনিককে গড়ে তুলছে দৃঢ় মনোবল ও সংবেদনশীল শিল্পী হিসেবে।
অনিকের বাবা অসীম কুমার জানা একজন ব্যাংক কর্মী হলেও সংগীতের সঙ্গে তাঁরও গভীর সংযোগ আছে—তাঁর হাতেই বাজে তবলা। অনিকের বাবা বলেন, “অনিকের এটা ঈশ্বর প্রদত্ত প্রতিভা। অনিকের মধ্যে এমন কিছু আছে যা শেখানো যায় না, ওর ভেতর থেকেই আসে।”
প্রথম প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল অনিক জি বাংলার জনপ্রিয় অনুষ্ঠান *সারেগামাপা*-তে। বর্তমানে সে মায়ের কাছেই শিখছে ক্লাসিক্যাল ও ভোকাল মিউজিক। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় অনিক রেওয়াজ করে—নিয়মিত, মনোযোগী ও একাগ্রচিত্তে।
অনিকের মা বলেন, “ও খুব দ্রুত গান বুঝে নিতে পারে, যেন সুরের সঙ্গে ওর এক জন্মগত বন্ধন।” অন্যদিকে অনিকের ছোট ভাইও দাদার প্রভাবে এখন গান শেখার চেষ্টা করছে। দুই ভাইয়ের খুনসুটি আর গানের মিলিত ছন্দে অনিকের সংসার যেন এক ছোট্ট সঙ্গীতময় পৃথিবী।
অনিকের স্বপ্ন বড় হয়ে ইংরেজি ও সংগীত—দুই বিষয়েই পড়াশোনা করা।
আমাদের সাক্ষাৎকারের একেবারে শেষের দিকে আমরা যখন মা ছেলের ডুয়েট গান শুনতে চাই তখন আমাদের প্রতিবেদনের শেষ সুরটা মিলিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে গান ধরল— *“আমারো পরানো যাহা চায়, তোমায় ছাড়া এই জগতে মোর কেহ নাই, কিছু নাই গো…” অনিকের মায়ের চোখে তখন গর্বের অশ্রু আর মুখে নরম হাসি। সত্যিই, অনিক শুধু এক প্রতিভাবান শিশু নয়, সে যেন সংগীতের ভবিষ্যৎ ভারতের এক উজ্জ্বল আলোকরেখা।
![]()

More Stories
রোজ ভ্যালি কাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের স্বস্তি, ফের শুরু টাকা ফেরত প্রক্রিয়া
বিধানসভা ভোটে নজিরবিহীন নিরাপত্তা, ২,৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের
এক নজরে দেখে নিন তৃণমূলের ইস্তাহার ২০২৬