November 30, 2025

ভক্তি, আলোক ও আনন্দে মগ্ন রাস উৎসব

প্রাচীন ঐতিহ্যের পথে ভক্তির আবহে ভাসছে গ্রাম–শহর

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ কার্তিক মাসের পূর্ণিমা তিথি — এই দিনেই সারা বাংলা, বিশেষত নদীয়া, মেদিনীপুর, বীরভূম, হুগলি, ও বৃন্দাবনের মতো অঞ্চলে পালিত হয় রাস উৎসব। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বৃন্দাবন লীলা, বিশেষত “রাসলীলা”–র স্মরণে এই উৎসবের আয়োজন হয়ে আসছে বহু শতাব্দী ধরে।

রাস পূর্ণিমার রাতে ভক্তরা কৃষ্ণ ও রাধার মিলনলীলা স্মরণে রাসমঞ্চে প্রদীপ জ্বালান, ফুল ও আলোয় সাজান মন্দির–প্রাঙ্গণ।
গ্রামীণ এলাকায় এই সময়ে রাস মেলা বসে — যেখানে ধর্মীয় আচার ছাড়াও মূর্তি, হস্তশিল্প, পিঠেপায়েস, খেলনা ও লোকসংগীতের আসর জমে ওঠে।

নদীয়া জেলার নৃত্যগোপালপুর, কৃষ্ণনগর, বেলপুকুর, মেদিনীপুরের তমলুক, এবং হুগলির তারকেশ্বর–খানাকুল অঞ্চলগুলিতে এই উৎসবের নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে।
নদীয়ার নবদ্বীপের রাসমেলা তো এখন ইউনেস্কো স্বীকৃত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম।

রাসের অন্যতম আকর্ষণ হল রাসলীলা নাট্যপ্রদর্শনী। স্থানীয় যুবক–যুবতীরা শ্রীকৃষ্ণ, রাধা ও গোপীগণের চরিত্রে অভিনয় করেন, সংগীত ও নৃত্যের মাধ্যমে তুলে ধরেন ভগবানের লীলা।
অনেক জায়গায় পতিতপাবন, দোল, গৌরাঙ্গলীলা–ও মঞ্চস্থ হয়।

রাস উৎসব শুধুমাত্র ধর্মীয় নয় — এটি গ্রামীণ বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীক। গ্রামের মানুষ নির্বিশেষে ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি এই উৎসবে অংশ নেন।
মেলা প্রাঙ্গণে ছোটদের আনন্দ, বয়স্কদের ভক্তি, আর ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা — সব মিলিয়ে বাংলার লোকজ সংস্কৃতির এক জ্যান্ত ছবি হয়ে ওঠে রাস।

ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী, বৃন্দাবনে পূর্ণিমার রাতে শ্রীকৃষ্ণ গোপীদের সঙ্গে রাসনৃত্যে মগ্ন হন। সেই লীলাকেই স্মরণ করতে গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের উদ্যোগে ১৫শ শতকে প্রথম রাস উৎসব পালিত হয় বলে ইতিহাসে উল্লেখ।
নদীয়ার নবদ্বীপে চৈতন্য মহাপ্রভুর সময় থেকেই এর ধর্মীয় তাৎপর্য আরও গভীর হয়।

আজও রাস উৎসব বাংলার জনজীবনের অঙ্গ — ভক্তি, আনন্দ ও ঐতিহ্যের মিলিত প্রতীক।
যুগ পাল্টেছে, উৎসবের রূপ বদলেছে, কিন্তু “রাস পূর্ণিমার চাঁদে কৃষ্ণলীলা–ভরা ভক্তির আলো” আজও বাংলার মাটিতে অম্লান।

Loading