সাত মাসেই পয়লা নম্বর, মৌনজ়ারোয় মজেছে দেশ
সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল বাজারে এক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে মার্কিন বহুজাতিক সংস্থা ইলাই লিলি অ্যান্ড কোম্পানি-র ওষুধ ‘মৌনজ়ারো’ (Mounjaro)। আত্মপ্রকাশের মাত্র সাত মাসের মধ্যেই এটি দেশের সর্বাধিক বিক্রিত ওষুধের ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে।
দেশের ওষুধ শিল্পের বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ‘ফার্মাট্র্যাক’-এর সাম্প্রতিকতম রিপোর্ট বলছে, দীর্ঘদিনের এক নম্বর ব্র্যান্ড গ্ল্যাক্সো স্মিথক্লাইনের অ্যান্টিবায়োটিক ‘অগমেন্টিন’-কে সরিয়ে অক্টোবরে বিক্রির নিরিখে শীর্ষে উঠে এসেছে মৌনজ়ারো।
অক্টোবরে অগমেন্টিন-এর বিক্রি হয়েছে প্রায় ৮৫ কোটি টাকা, যেখানে মৌনজ়ারো-এর বিক্রি প্রায় ১০০ কোটি টাকা। সাত মাসে এই ওষুধের মোট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৩৩৩ কোটি টাকায়। সেপ্টেম্বর মাসেও এর বিক্রি ছিল প্রায় ৮০ কোটি টাকার কাছাকাছি।
এই সাফল্য স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভারতের বাজারে ওজন কমানোর থেরাপি বা অ্যান্টি-ওবেসিটি চিকিৎসার চাহিদা কতটা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ইলাই লিলি সংস্থার তৈরি মৌনজ়ারো মূলত একটি ইনজেকটেবল ডিভাইস, যা টাইপ-২ ডায়াবিটিস এবং ওবেসিটি চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। মার্চ মাসের শেষে ‘মৌনজ়ারো কুইকপেন’ নামে প্রি–ফিল্ড ইনজেকশনের মাধ্যমে এটি ভারতের বাজারে আত্মপ্রকাশ করে। শুরুতেই চিকিৎসকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ এবং রোগীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়।
তবে এত দ্রুত বিক্রির অন্যতম কারণ হলো ওষুধটির উচ্চমূল্য। ডোজ অনুযায়ী এক জন রোগীর মাসিক খরচ দাঁড়ায় ১৪ হাজার থেকে ২৭ হাজার টাকার মধ্যে। তুলনায় অগমেন্টিন–৬২৫ ডুয়ো–র ১০টি ট্যাবলেটের দাম ২০০ টাকারও কম। ফলে বিক্রির পরিমাণ তুলনামূলক কম হলেও, টাকার অঙ্কে সহজেই এক নম্বরে উঠে এসেছে মৌনজ়ারো।
ডেনমার্কের বহুজাতিক সংস্থা নোভো নর্ডিস্ক সম্প্রতি তাদের সেমাগ্লুটাইড ব্র্যান্ড ‘উইগোভি’ (Wegovy) বাজারে এনেছে, যার বিক্রি অক্টোবরে প্রায় ১০ কোটি টাকা ছুঁয়েছে। উইগোভি–ও ডায়াবিটিস ও ওবেসিটির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, ফলে বাজারে প্রতিযোগিতা এখন আরও তীব্র।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতের ওষুধ শিল্পে এক নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতার যুগের সূচনা করছে। এতদিন পর্যন্ত সর্বাধিক বিক্রিত ওষুধগুলির মধ্যে ছিল অগমেন্টিন ও গ্লাইকোমেট–জিপি। কিন্তু এখন চিত্রটা বদলে যাচ্ছে।
ফার্মাট্র্যাক জানিয়েছে, বর্তমানে ভারতে অ্যান্টি-ওবেসিটি ওষুধের বাজারমূল্য ৩,০০০–৩,৫০০ কোটি টাকা।
তবে অনুমান, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এই বাজার ২৫,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে।
ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ (ICMR)-এর ২০২৩ সালের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে প্রায় ২৫ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষ ওবেসিটিতে ভুগছেন, যা এই ওষুধের বিশাল সম্ভাবনাময় বাজার তৈরি করেছে।
সাত মাসে এমন নজিরবিহীন সাফল্য ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে এক বড় মাইলফলক।
দীর্ঘদিনের অ্যান্টিবায়োটিক লিডার অগমেন্টিন-কে বিক্রির নিরিখে টেক্কা দিয়ে এখন এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল মৌনজ়ারো—একটি ওষুধ, যা কেবল ডায়াবিটিস নয়, দেশের স্থূলতা–বিরোধী লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে উঠছে।

![]()

More Stories
ডায়াবিটিস ও হার্ট–স্ট্রোক রোধে যুগান্তকারী ওষুধ ‘রাইবেলসাস’
৭২ ঘণ্টা উপবাসে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার পুনর্জন্ম — যুগান্তকারী গবেষণার দাবি মার্কিন বিজ্ঞানীদের
স্ত্রী রাতের বেলা সাপে পরিণত হন! প্রশাসনের দ্বারে স্বামীর অভিযোগ