February 4, 2026

আভা বা ‘অরা’ নিয়ে নতুন দাবি, তোলপাড় দুই মার্কিন পদার্থবিদের গবেষণায়

মানুষের শরীর ঘিরে শক্তিক্ষেত্রের অস্তিত্বের ইঙ্গিত, বৈজ্ঞানিক মহলে বিতর্ক

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ মানুষের শরীরকে ঘিরে থাকা রহস্যময় শক্তিক্ষেত্র বা ‘অরা’ (Aura) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই লোককথা ও আধ্যাত্মিক চর্চায় আলোচনা চলে আসছে। এবার সেই ধারণাকে ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক উসকে দিলেন দুই মার্কিন পদার্থবিদ। তাঁদের দাবি, মানুষের শরীরের চারপাশে এক ধরনের শক্তিক্ষেত্র বা আভা সত্যিই থাকতে পারে, যার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খোঁজার কাজ শুরু হয়েছে।

গবেষকদের মতে, মানবদেহ থেকে নির্গত তাপ, বৈদ্যুতিক স্নায়ু সংকেত এবং জৈব-রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে শরীরের চারপাশে এক বিশেষ শক্তির বলয় তৈরি হয়। অত্যাধুনিক সেন্সর ও ইমেজিং প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই শক্তিক্ষেত্রের অস্তিত্ব ধরা পড়তে পারে বলে তাঁদের দাবি। গবেষণায় বলা হয়েছে, এই শক্তিক্ষেত্র মানুষের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।

তবে বিজ্ঞানী মহলের একাংশ এই দাবিকে এখনও সম্পূর্ণভাবে মানতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, মানুষের শরীর থেকে তাপ ও বিদ্যুৎজাতীয় তরঙ্গ নির্গমন হওয়া স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। একে ‘অরা’ বা রহস্যময় শক্তিক্ষেত্র হিসেবে ব্যাখ্যা করা কতটা বৈজ্ঞানিক, তা আরও বিস্তৃত গবেষণা ছাড়া বলা সম্ভব নয়।

গবেষকদের দাবি অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এই শক্তিক্ষেত্র নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করা গেলে রোগ নির্ণয়, মানসিক স্বাস্থ্যের মূল্যায়ন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে। বিশেষ করে স্নায়ুজনিত রোগ বা মানসিক চাপের প্রভাব বোঝার ক্ষেত্রে এই গবেষণা সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে এই গবেষণার খবর প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কেউ একে বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার সেতুবন্ধন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ একে অতিরঞ্জিত দাবি বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন।

সব মিলিয়ে, মানুষের শরীর ঘিরে থাকা তথাকথিত ‘অরা’ আদৌ বাস্তব নাকি কেবল শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার ভিন্ন ব্যাখ্যা—তা জানতে আরও বিস্তৃত ও নিরপেক্ষ গবেষণার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ব।

Loading