হিমালয় ও পার্বত্য অঞ্চলের রহস্যময় প্রানী
সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ কস্তূরী মৃগ, বা ইংরেজিতে “Mask Deer”, হলো পুরুষ হরিণের এক অনন্য প্রজাতি। এরা অত্যন্ত লাজুক এবং নিরিবিলি জীবনযাপন করে। পার্বত্য অঞ্চলে, বিশেষ করে হিমালয়ের উচ্চভূমিতে এদের আবাস পাওয়া যায়। ছোট কস্তূরী হরিণের পা সরু, মাথা সুন্দর এবং চোখ উজ্জ্বল, তবে ঠান্ডা পরিবেশের কারণে এদের দেহের লোম মোটা ও পালকের মতো হয়ে থাকে।
অন্যান্য হরিণের মতো এদেরও দাঁত থাকে, তবে কস্তূরী মৃগের মাড়িতে দুটি বিশেষ “গজদন্ত” দাঁত লক্ষ্য করা যায়। এরা দ্রুত দৌড়াতে পারে এবং এক লাফে ৪০ ফুট পর্যন্ত দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে।
পুরুষ কস্তূরী মৃগের নাভিতে একটি বিশেষ গ্রন্থি থেকে সুগন্ধি কস্তুরী উৎপন্ন হয়। হরিণটির বয়স প্রায় ১০ বছর হলে এই গ্রন্থি পরিপক্ব হয়। সুগন্ধি কোষ পরিপক্ব হওয়ার পর হরিণ নিজেই গন্ধের দ্বারা উচ্ছল হয়, তবে বুঝতে পারে না যে গন্ধটি তার নিজের দেহে রয়েছে। প্রায় ২০০০টি হরিণ থেকে মাত্র এক কেজি কস্তুরী সংগ্রহ করা সম্ভব।
শিকারিরা গ্রন্থি সংগ্রহের সময় নাকে কাপড় বাঁধেন; তবু গন্ধ এতটাই তীব্র হয় যে কারও কারও চোখ, নাক ও মুখ থেকে পানি ঝরে এবং কিছু ক্ষেত্রে জীবনহানিও ঘটেছে। এ কারণে কস্তূরী মৃগ আজ বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির মধ্যে পড়েছে।
শুকনো কস্তুরীর রঙ ধোঁয়াটে কালো, স্বাদে তেঁতো, এবং গরম জলে এর ৯০% গলে যায়। চীন, নেপাল, ভারত, রাশিয়া, মায়ানমার সহ অন্যান্য দেশেও কস্তুরী পাওয়া যায়। চীনের কস্তুরী উৎকৃষ্ট, আর রাশিয়ার তুলনায় নিম্নমানের।
ঔষধি হিসেবে কস্তুরী স্বাস্থ্য, শক্তি, যৌন উদ্দীপনা, ব্যথানাশক এবং রক্ত উত্তেজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি জ্বরজনিত খিঁচুনী, পেটের ব্যথা এবং আঘাতজনিত যন্ত্রণা সারাতে সহায়ক।
কেবল হরিণ নয়, বিড়াল, ইঁদুর এবং কিছু গাছ থেকেও কস্তুরী উৎপন্ন হয়। বিজ্ঞানীরা কৃত্রিমভাবে ল্যাবরেটরিতে Musk cone তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে, যা সুগন্ধি শিল্পে ব্যবহার হচ্ছে।
কস্তূরী মৃগ শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, প্রাচীনকাল থেকে মানুষের জীবনযাপনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখেছে। তবে তার অযথা শিকার ও পরিবেশের কারণে আজ এটি বিলুপ্তপ্রায়।

![]()

More Stories
আভা বা ‘অরা’ নিয়ে নতুন দাবি, তোলপাড় দুই মার্কিন পদার্থবিদের গবেষণায়
অ্যান্টি-ওবেসিটি ওষুধের চাহিদা তুঙ্গে
ডায়াবিটিস ও হার্ট–স্ট্রোক রোধে যুগান্তকারী ওষুধ ‘রাইবেলসাস’