February 4, 2026

জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ

“হে বঙ্গভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন—
তা সবে অবোধ আমি অবহেলা করি…”

অতুলনীয় মননশীলতা ও বিরল প্রতিভার অধিকারী ‘মধুকবি’ মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মদিনে অন্তরের গভীর শ্রদ্ধা।

আজ থেকে ঠিক ২০০ বছর আগে, ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি, তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের যশোর জেলার সাগরদিঘি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত কায়স্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা সাহিত্যের এই মহাকবি। ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালি নবজাগরণ সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি—একাধারে কবি, নাট্যকার ও সাহিত্য সংস্কারক।

যৌবনে পাশ্চাত্য সাহিত্য ও সংস্কৃতির গভীর প্রভাবে তিনি খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। সেই সময় ইংরেজি ভাষাতেই সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন তিনি। The Captive Lady সহ একাধিক ইংরেজি কাব্য ও রচনায় তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর পাওয়া যায়।

তবে জীবনের দ্বিতীয় পর্বে মাতৃভাষার টান তাঁকে আবার ফিরিয়ে আনে বাংলার মাটিতে। তখনই শুরু হয় বাংলা সাহিত্যের এক বৈপ্লবিক অধ্যায়। মধুসূদনের হাত ধরেই বাংলা ভাষা পায় অমিত্রাক্ষর ছন্দচতুর্দশপদী কবিতা (সনেট)—যা বাংলা কাব্যরীতিকে নিয়ে যায় এক নতুন উচ্চতায়।

অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি—রামায়ণের উপাখ্যানকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করে যা বাংলা মহাকাব্যের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক।
তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে—
শর্মিষ্ঠা, তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, বীরাঙ্গনা কাব্য, ব্রজাঙ্গনা কাব্য, চতুর্দশপদী কবিতাবলী, হেক্টর বধ, বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ, একেই কি বলে সভ্যতা প্রভৃতি।

মাইকেল মধুসূদনের ব্যক্তিগত জীবন ছিল গভীরভাবে নাটকীয় ও বেদনাঘন। প্রতিভার স্বীকৃতি পেলেও জীবনের শেষ অধ্যায়ে তাঁকে চরম দারিদ্র্য ও নিঃসঙ্গতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়।
১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, মাত্র ৪৯ বছর বয়সে, কলকাতায় কপর্দকশূন্য অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

কিন্তু মৃত্যু তাঁর সৃষ্টিকে স্তব্ধ করতে পারেনি। আজও বাংলা সাহিত্য তাঁর কাছে ঋণী—ভাষার সীমা ভেঙে, চিন্তার দিগন্ত প্রসারিত করার জন্য।

মধুকবির জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ—
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের এই চিরনবীন পথিকৃৎকে।

Loading