February 4, 2026

প্রবাদপ্রতিম সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃআজ প্রবাদপ্রতিম সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবীর ১১৮তম জন্মদিন। এই বিশেষ দিনে বাংলা সাহিত্য তাঁর এক অসামান্য স্রষ্টাকে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছে।

১৯০৯ সালের ৮ই জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করা আশাপূর্ণা দেবী ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার এবং খ্যাতনামা শিশু সাহিত্যিক। বিস্ময়কর হলেও সত্য, তিনি কোনও প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থার সুযোগ পাননি। সেই সময় সমাজে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ঘরের ছেলেরাই পড়াশোনা করবে—মেয়েদের জন্য সেই অধিকার ছিল না।

অন্তঃপুরে আবদ্ধ থেকেও, একেবারে সাধারণ আটপৌরে জীবনযাপন করেও তিনি গড়ে তুলেছিলেন গভীর পাঠাভ্যাস ও সূক্ষ্ম জীবনবোধ। তৎকালীন সমাজে নারীদের অবস্থান, বঞ্চনা, নীরব ত্যাগ ও আত্মসংগ্রামের বাস্তব চিত্র তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন এবং তা তাঁর সাহিত্যে অসাধারণ দক্ষতায় তুলে ধরেছেন।

আধুনিক সমাজে নারীর ভূমিকা নিয়ে তিনি লিখেছেন বাস্তবতার নিরিখে। নারীর চাহিদা, আত্মসম্মান ও ত্যাগের কথা তাঁর সাহিত্যে বারবার উঠে এসেছে। তবে আধুনিকতার নামে কৃত্রিম বিলাসিতা বা ভোগবাদী দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর লেখায় কখনও স্থান পায়নি। বরং সহানুভূতি, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধই ছিল তাঁর সাহিত্যচিন্তার মূল ভিত্তি।

প্রথাগত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েও তিনি জীবনে সম্মানের শিখরে পৌঁছেছিলেন। জবলপুর, বর্ধমান ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ছিলেন সাহিত্য একাডেমির ফেলো এবং ১৯৭৮ সালে লাভ করেন ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান—জ্ঞানপীঠ পুরস্কার

তাঁর সৃষ্ট উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলির মধ্যে রয়েছে—
‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’, ‘সুবর্ণলতা’, ‘বকুল কথা’, ‘অগ্নিপরীক্ষা’—যেগুলি বাংলা সাহিত্যে নারীকেন্দ্রিক চিন্তা ও সমাজবাস্তবতার এক অনন্য দলিল হিসেবে বিবেচিত।

১৯৯৫ সালের ১৩ই জুলাই আশাপূর্ণা দেবী প্রয়াত হন। তবে তাঁর সাহিত্য আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক, জীবন্ত ও প্রেরণাদায়ক।

Loading