সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ সোমবার বিকালে রাজধানী ঢাকার বিদেশি সংক্রান্ত সূত্র থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, খলিলুর রহমান, যিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (NSA) দায়িত্বে রয়েছেন, একদিন আগেই ভারতে পৌঁছেছেন। তিনি ১৯–২০ নভেম্বর দু’দিবসব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া Colombo Security Conclave (CSC) বৈঠকে অংশ নেবেন। একই সঙ্গে ভারতের NSA অজিত দোভাল-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করার সম্ভাবনাও রয়েছে।
- CSC হলো একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ফোরাম, যেখানে ভারতীয় মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, মানবতাবাদী সহায়তা ও সাইবার সিকিউরিটির মতো ইস্যু আলোচিত হয়।
- এই মিটিং অনুষ্ঠিত হবে দিল্লিতে, যার আরোপিত দিন হচ্ছে ১৯–২০ নভেম্বর। বাংলাদেশের NSA ১৯ তারিখে ভারতের রাজধানীতে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
- যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কতগুলি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে তা প্রকাশ হয়নি, তবে ভারত–বাংলাদেশের কূটনৈতিক ভাবে দীর্ঘদিন ধরে শীতলতা বিরাজ করছে। ফলে এই সফরকে দুটি দেশের মধ্যে “বরফ গলানোর” প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইস্যু ও প্রেক্ষাপট
- ভারতের নয়া নিরাপত্তা প্রেক্ষাপটে তাদের লক্ষ্য হলো: “বাংলাদেশের ভূখণ্ডটি যেন কোনো তৃতীয় পক্ষের (উদাহরণস্বরূপ পাকিস্তান বা চীন-সহযোগী কর্মসূচি) জন্য নিরাপত্তাহীন জায়গা হয়ে দাঁড়ায় না।” ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে এ উদ্বেগ প্রকাশ পাওয়া গেছে।
- একাধিক পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তা গত কয়েক মাসে ঢাকায় সফর করেন, যা ভারতের চোখে নিরাপত্তাজনিত একটি অনুভবযোগ্য সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
- রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশের বর্তমান মধ্যবর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন প্রস্তুতি, পাশাপাশি বিদেশনীতি ও নিরাপত্তা নীতি পুনর্মূল্যায়নের প্রেক্ষাপট রয়েছে। এসব কারণে এই সফরকে কেবল একটি প্রতিচ্ছবি হিসেবে নয়, বরং রণনৈতিক পুনরায়চিত্রণ (strategic recalibration) হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্ভাব্য আলোচ্যসূচি
- সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও মহাসাগরীয় এলাকায় নিয়ন্ত্রণ: ভারত ও বাংলাদেশ—উভয়ই বঙ্গোপসাগর রিজিয়ন নিয়ে উদ্বিগ্ন। CSC-র আলোচনায় এই বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ।
- সন্ত্রাস-দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া ও সাইবার নিরাপত্তা: যৌথ তথ্য শেয়ারিং, অপরাধমুক্ত চ্যানেল নির্মাণ এবং সামগ্রিক গোয়েন্দা সংযুক্তি বিষয় থাকতে পারে।
- দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন: যদিও বিষয়টি বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য নয় বলেই মনে করা হচ্ছে, কিন্তু আন্তঃমন্ত্রণালয়ীয় সংলাপ পুনরায় চালু করার একটি গুরুত্বপূর্ন সময় তা হতে পারে।
- নির্বাচনী প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক সংস্কার: যদিও এতে সরাসরি আলোচনার ঘোষণা নেই, ভারতের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক অগ্রগতি নিরাপত্তাজনিত প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় রয়েছে।
অচেনা সম্ভাবনা ও উদ্বেগ
- যদি এই বৈঠক সাফল্যমণ্ডিত হয়, তাহলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিককলের দিকে ফিরতে পারে।
- কিন্তু একাধিক “জটিলতা” রয়েছে: অপ্রকাশিত আলোচ্যসূচি, রাজনৈতিক পরিবর্তনশীলতা, তৃতীয় পক্ষের সক্রিয়তা—সবই এই সফরকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
- বিশেষ করে, ভারতের দৃষ্টিতে “নিরাপত্তা” বিষয়টি অন্য যেকোনো দ্বিপাক্ষিক ইস্যুর চেয়ে দ্রুত ও জরুরি।
দিল্লি আগামী ৪৮ ঘণ্টায় শুধু দুটি দেশের NSA-র মিটিংয়ের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে না—একই সঙ্গে এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা, ভূ-রাজনীতি ও কূটনৈতিক পুনরায়চিত্রণের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে খলিলুর রহমানের আগমন, ভারতীয় NSA-র সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনা ও CSC-র মঞ্চ—all মিলিয়ে এটি এমন এক মুহূর্ত যেখানে সিদ্ধান্তের সিগন্যাল রপ্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে।

![]()

More Stories
‘ইতিহাস বইয়ে আকবর-ঔরঙ্গজেব, দেশের আসল নায়করাই ব্রাত্য’, সিলেবাস বদলের দাবি অক্ষয়ের?
বঙ্গোপসাগরের আকাশে ১৪,০০০ কিমি নো–ফ্লাই জোন ঘোষণায় ভারতের নিরাপত্তা কৌশলে নতুন অধ্যায়
বিহারে মাতৃদুগ্ধে ইউরেনিয়াম—চমকে দিল গবেষণাবিশেষজ্ঞদের সতর্কতা: দূষণ পৌঁছে গেছে বিপজ্জনক পর্যায়ে