বৈশ্বিক উন্নয়ন ও সর্বাত্মক কল্যাণে ভারতের “সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি”র বার্তা
সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে চলতি বছরের জি–২০ শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিনেই বৈশ্বিক উন্নয়নকে নতুন দিশা দেখাতে ছ’টি নয়া উদ্যোগের প্রস্তাব রাখলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সম্মেলনের দুইটি পৃথক অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এই উদ্যোগগুলি ভারতের “সমন্বিত উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধি এবং জনকল্যাণ কেন্দ্রিক” দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।
সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যেই ছ’টি উদ্যোগ
শ্রী মোদী জানান, তার প্রস্তাবিত প্রতিটি উদ্যোগই “মানুষকে কেন্দ্র করে উন্নয়ন”, পরিবেশ ও প্রযুক্তিকে এক ছাতার তলায় আনা এবং উন্নয়নশীল বিশ্বের স্বার্থরক্ষাকে এগিয়ে নিতে তৈরি করা হয়েছে। তাঁর মতে, ২১ শতকের আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় নয়া কাঠামো তৈরিতে এই প্রস্তাবগুলি কার্যকর ভূমিকা নেবে।
যদিও ছয়টি উদ্যোগের পৃথক বিশদ বিবরণ পরে প্রকাশ পাবে, মোদী স্পষ্টভাবে জানান—এগুলি বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলির অগ্রাধিকারকে মাথায় রেখে তৈরি,টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা(SDG) অর্জনে সহায়ক,এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গত এক দশক ধরে ভারতের উন্নয়নমুখী নীতি, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন, ডিজিটাল জনপরিসেবা এবং সামাজিক সুরক্ষা–ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বিশ্ববাসীর সামনে এক উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন—“ভারতের সমৃদ্ধি শুধু নিজস্ব উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন পথ দেখায়। আমাদের অভিজ্ঞতা এবং উদ্ভাবন বিশ্বকে এগিয়ে নিতে পারে।”
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মোদীর বার্তার গুরুত্ব
জি–২০ আজ বিশ্বের ৮০ শতাংশ অর্থনৈতিক উৎপাদন, ৭৫ শতাংশ বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং ৬০ শতাংশ জনসংখ্যাকে প্রতিনিধিত্ব করে। বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা, ঘনঘন জলবায়ু সংকট, প্রযুক্তিগত বৈষম্য এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে এমন সময়ে—বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা,জলবায়ু ন্যায়বিচার,ডিজিটাল সমতা,উন্নয়নশীল দেশগুলির স্বার্থরক্ষা
—এই চারটি ক্ষেত্রকে সামনে রেখে ভারতের তরফে ছ’দফা নয়া রূপরেখা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
সম্মেলনের প্রথম দিনেই ভারতের অবস্থান স্পষ্ট
প্রথম দিনের বক্তৃতায় মোদী যে বার্তা দিলেন তা স্পষ্ট—
ভারত শুধু এশিয়ার নয়, বরং সমগ্র বৈশ্বিক দক্ষিণের সমন্বয়কারী নেতৃত্বের অবস্থান নিতে চাইছে।
তিনি বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলির কাঠামোগত সংস্কারের পক্ষেও পুনরায় জোর দেন, যাতে উন্নয়নশীল বিশ্বের কণ্ঠস্বর আরও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
জোহানেসবার্গে জি–২০–র প্রথম দিন ভারতের অবস্থান ছিল দৃঢ়, আত্মবিশ্বাসী এবং নীতিনির্ভর। মোদীর ছ’দফা প্রস্তাব আন্তর্জাতিক মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে বলে কূটনৈতিক মহলের অভিমত। আগামী বৈঠকগুলিতে এই প্রস্তাবগুলি কোন পথে এগোবে, তা এখন দৃষ্টি রাখার বিষয়।

![]()

More Stories
বিদ্যুতের খুঁটি নয়, শিল্পকর্ম! অস্ট্রিয়ার নয়া উদ্ভাবনে বিশ্ব স্তম্ভিত
অশ্বিনীর বরিশাল
জাতিসংঘের মঞ্চে বাঁকুড়ার মাটির সন্তান — অথচ নীরব পশ্চিমবঙ্গ!